আলোকিত প্রতিবেদক :
একদিকে বৈশ্বিক মহামারিতে চলছে সারাদেশে লকডাউনের বিধিনিষেধ। সাথে যোগ হয়েছে শ্রাবণের বৃষ্টিধারা। অন্যদিকে সবকিছু ছাপিয়ে সুন্নিয়তের প্রাণের মানুষকে চির বিদায় দিতে বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর বুড়া মসজিদে জড়ো হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। অতিমারির এ সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হামদ, নাত, মিলাদ, দরুদ পরিবেশন করে সমগ্র চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষ দলে দলে হাজির হয়ে সুন্নিয়তের এই মহীরুহের শেষ যাত্রায় অংশ নেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের উপদেষ্টা, চরণদ্বীপ দরবারে রজভীয়া আলিয়া শরীফের পীর ছাহেব, মুফতিয়ে আজম, মুফাচ্ছেরে হাক্কানী, মুহাদ্দেসে রব্বানী, আকমালুল কামেলীন, বাহরুল উলুম, মুরশিদে বরহক, নায়েবে আলা হযরত, চরণদ্বীপ রজভীয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি শাহ্ মুহাম্মদ ইদ্রীছ রজভী বড় হুজুর কেবলাকে ২৮ জুলাই বুধবার বোয়ালখালী শ্রীপুর বুড়া মসজিদ ঈদগাঁ মাঠে সকাল ১১টায় নামাজে জানাযা শেষে পূর্ব চরণদ্বীপে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জানাযা সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ ও বোয়ালখালী থানা পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে। জানাযায় ইমামতি করেন হুজুরের ছেলে অধ্যক্ষ মাওলানা আতাউল মোস্তফা রেজভী।
দূরদূরান্ত হতে আগত মুসল্লিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন হুজুরের ছেলে চরণদ্বীপ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও চরণদ্বীপ রজভীয়া ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব রেযা।
প্রশাসনের কঠোর কড়াকড়ি সত্ত্বেও শোকাহত জনতা জানাযায় অংশ নিতে এবং আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইদ্রিছ রেজভী হুজুরকে শেষবারের মতো দেখতে বোয়ালখালীর শ্রীপুর বুড়া মসজিদ ঈদগাঁ ময়দানে জড়ো হতে থাকে। সকাল ১০টার পূর্বেই ঈদগাঁ ময়দান পূর্ণ হয়ে মসজিদের ভেতরে, বাইরে, ছাদে, স্থানীয় বাজার কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ১০টার পর যারা এসেছেন তাদেরকে আশেপাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্মরণকালের বিশাল জানাযায় অংশ নিতে হয়।
জানাযা পূর্বে বিশাল মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের চেয়ারম্যান কাজী মঈন উদ্দিন আশরাফি, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা অছিয়র রহমান আলকাদেরী, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা এম.এ মান্নান, মহাসচিব এম এ মতিন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব স.উ.ম আবদুস সামাদ, গাউসিয়া কমিটির সভাপতি পেয়ার মোহাম্মদ, মহাসচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দিন বখতেয়ার, অধ্যক্ষ বদিউল আলম রেজভী, অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রহিম আলকাদেরী, মাওলানা নুর মুহাম্মদ আলকাদেরী প্রমুখ।
বক্তাগণ বলেন, ইসলামের মূল রূপরেখা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রচার-প্রসারে বর্তমানে যাঁদের নাম ও ত্যাগের কথা সর্বত্রে সমাদৃত তাঁদের মধ্যে অধ্যক্ষ আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইদ্রিছ রজভী অন্যতম। ইমামে আহলে সুন্নাত, আল্লামা গাজী শেরে বাংলা (রাহঃ) এর যোগ্য শিষ্য হিসেবে সুন্নীয়তের ময়দানে তিনি যে অবদান রেখে যাচ্ছেন তা চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বক্তাগণ বলেন, নীতি ও আদর্শে সদা অবিচল আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইদ্রিছ রেজভী (রাহ.) ছিলেন দেশের আপামর সুন্নী জনতার হৃদয়ের প্রাণ স্পন্দন ও প্রেরণার বাতিঘর। সুন্নীয়ত প্রতিষ্ঠায় যেকোন ত্যাগ ও চ্যালেঞ্জকে তিনি সাদরে গ্রহণ করতেন।
জানাজা শেষে নিজ বাড়ী সংলগ্ন মসজিদের পাশে পাà
