সেলিনা খান বাদল >>
আওয়ামীলীগ এর সভাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাষণ দিবেন।
সারা বাংলার মানুষ দলে দলে সে দিন শেখ মুজিবরের ভাষণ শোনার জন্য পাগলের মত ছুটে গিয়েছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে, পুরো এলাকা জুড়ে তিল পরিমাণ ঠাঁই নেই। জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল পুরো এলাকা। কি বলবেন ছয় দফা আন্দোলনের রুপকার শেখ সাহেব, যিনি কি-না নিজের দেশপ্রেম ছাড়া কিছুই ভাবতে পারতেন না। স্বাধীনতার স্বপ্ন তাঁর পুরো চিন্তা চেতনায়। আমার বাবা মরহুম বাদশা মিয়া চাঁদপুর হতে একদিন আগেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলো শেখ সাহেবের বক্তৃতা শোনার জন্য।
আমি তখন চাঁনপুর “লেডি প্রতিমা গার্লস হাই স্কুলে ” নবম শ্রেণির ছাত্রী। কি অসীম উত্তেজনা বিরাজ করছে আমাদের মাঝে! বাঙালী জাতির জন্য যিনি কি-না জেল খাটতে ভয় পান না যিনি দূর্দান্ত সাহস বুকে ধারণ করেন বাঙ্গালী জাতির জন্য একটি স্বাধীন সার্বভৌম শোষণ মুক্ত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেন। তিনি কি বলবেন? মহা সমাবেশে! তাই সমগ্র বাঙালী পাগলের মতো ছুটেছে সেই দিনের সেই মহা নায়ককে সামনে থেকে সমর্থন ও সাহস যোগানোর জন্য । চারিদিকে চরম উত্তেজনা, আমরা মা- সহ রেডিও ছেড়ে বসে আছি কি বলে তা নিজ কানে শোনার জন্য। আমাদের মহা নায়ক সেদিন মঞ্চে উঠেই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বাঙালিদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না চারিদিকে সেদিন জনসমুদ্রের মাঝে ধ্বনিত হচ্ছিল হে নেতা হুকুম করুন আমরা বাঙালিরা পশ্চিম পাকিস্তানীদের ভয় করি না, আমরা মুক্তি চাই, বাঙালির ঐক্য দেখে সেই দিন আবিভূত শেখ মুজিবুর আঙ্গুল উঁচিয়ে বলেছিলেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম , তোমাদের যার যাই কিছু আছে তা নিয়ে প্রস্তুত হও, তা দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে”।
বাবা ফিরে এলেন পরের দিন, বাবার চোখে মুখে আগুন জ্বলছিলো, আমাদের বললো -” বঙ্গবন্ধু বলেছে আমরা আর পরাধীন থাকবো না এদেশ মুক্ত হবেই আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই, ” এর পর সবাই কে সংগঠিত করতে দিন রাত ছুটে চলতো বাবা ।
আজ আমাদের প্রিয় নেতা স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই। যারা সত্যিকারের বাঙালি যার শরীরে শুদ্ধ বাঙালির রক্ত বহমান তারা কোনোদিনও বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। তিনি সে দিন যদি আমাদের দিক নির্দেশনা না দিয়ে পশ্চিমাদের হাতে বন্ধী হয়ে যেতেন তবে হয়ত আজও আমাদেরকে পরাধীন জাতি হিসেবেই থাকতে হতো।
বিশ্ববাসী এমনিতেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী উপাধি, ৭ ই মার্চের ভাষণ শ্রেষ্ঠ হিসেবে স্বীকৃতি -এটি বাঙালী চেতনার প্রতি বিশ্ববাসীর মূল্যায়ন।
আজ আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে গর্বিত বাঙালি জাতির গর্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ আল্লাহ দরবারে বাঙালিদের প্রার্থনা বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে আল্লাহ যেন জান্নাত নসীব করেন ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
লেখকঃ– মিসেস সেলিনা খান বাদল (প্রয়াত সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দিন খান বাদলের সহ ধর্মিনী)










