এদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক গুমের হাত থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করায় বাংলাদেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। গত ৩০ আগস্ট শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বলপূর্বক গুমের ইস্যুটি নিয়ে বাংলাদেশের একটি দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক ইতিহাস রয়েছে। এ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বার বার কথা বলে আসছে। শামদাসানি বলেন, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে জোরপূর্বক গুম হওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছেন।’
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা কমিশনকে এর কাজে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছি, যা ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ আলোচনা–পরামর্শ এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে নির্দেশনামূলক নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।’ শামদাসানি বলেন, ‘জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবন, জবাবদিহিতা ও পুনর্মিলন এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য মানবাধিকারকে এগিয়ে নিতে এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও জনগণকে সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।’
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘একটা স্বাধীন দেশে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছে স্বাধীনতার জন্য। সে দেশে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরে গুম নিয়ে কথা বলতে হয়। তার মতো দুঃখের আর কী হতে পারে। আর যেন গুম নিয়ে কথা বলতে না হয়, এ কারণে গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করেছে। গুমের কোনো ন্যায্যতা অন্যায্যতা নেই। প্রথম থেকেই এটা অন্যায্য বিষয়।’ তাঁরা বলেন, গুম হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে যেন সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব না হয়, সে–বিষয়ে সরকারের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা থাকতে হবে। অন্তত যারা গুমের বিষয়ে জড়িত ছিলেন, তাদের যেন বিচারের মুখোমুখি করা যায়, এটুকু আশা করা তো একটা সভ্যদেশে বেশি আশা করা না। আর যেন কোনো সরকার তার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে আয়নাঘর সৃষ্টি করতে না পারে, সে–ব্যাপারে সর্বাত্মক সতর্ক থাকতে হবে। তাঁরা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধেরও দাবি জানান।









