চট্টগ্রাম-৮ আসন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী আবু সুফিয়ানের গাড়িতে হামলা, বোয়ালখালীর রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে


চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনের উপ-নির্বাচনে তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তার আগেই ছড়াচ্ছে নির্বাচনী উত্তাপ। মনোনয়ন নিশ্চিত করতে প্রার্থীরা যখন দৌড়ঝাঁপের মধ্যে রয়েছেন ঠিক তখনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু সুফিয়ানকে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানোর ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে বোয়ালখালীর রাজনৈতিক অঙ্গন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার আত্মীয়ের জানাজাশেষে নগরে ফেরার পথে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে বহনকারী গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠে। বিএনপি অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে।

নগর বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক মো. ইদ্রিস আলীর দাবি, হামলায় আবু সুফিয়ানকে বহনকারী বোয়ালখালী পৌর মেয়র আবুল কালাম আবু’র পাজেরো গাড়ির কাচ ভেঙ্গে যায়। ওই সময় গাড়িতে ছিলেন আবু সুফিয়ান। কাচ ভেঙ্গে চালক ইয়াছিন আহত হন।

এদিকে আসন্ন উপ নির্বাচনকে ঘিরে দৌড়ঝাঁপের মধ্যে রয়েছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন সাংসদ বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান বাদল, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি অথবা তাঁর জেষ্ঠ্য পুত্র আলহাজ মুজিবুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রেজাউল করিম চৌধুরী, ব্যবসায়ী নেতা এস এম আবু তৈয়ব ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল কাদের সুজন।

অপরদিকে বিএনপি থেকেও সম্ভাব্য তিন মনোনয়ন প্রত্যাশীর নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ও দলের দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক আলহাজ আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা আলহাজ এরশাদ উল্লাহ ও বোয়ালখালী পৌরসভার মেয়র বিএনপি নেতা হাজী আবুল কালাম আবু। এর মধ্যে মনোনয়ন দৌড়ে আবু সুফিয়ান এগিয়ে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার অনুসারীরা। এ অবস্থায় তার ওপর হামলার ঘটনাটি বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষুব্ধ করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপি সংবাদ সম্মেলন, সভা-সমাবেশ করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য মঈন উদ্দিন খান বাদল ভারতের একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর পর আসনটি শূন্য হলে উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি রয়েছেন নির্দলীয় প্রার্থীও। কোন দল থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন এ নিয়ে এলাকায় চলছে সরব আলোচনা। ইতিমধ্যে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থী।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here