আলোকিত বোয়ালখালী ডেস্ক
গভীর কৃতজ্ঞতা এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই!
-প্রফেসর ড. নূ ক ম আকবর হোসেন
আমার ছোট ভাই আল্লামা মোহাম্মদ শায়েস্তা খান আল আযহারীর চিকিৎসা ও ওফাত পরবর্তী সকল কার্যক্রম সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন জন্য যাঁরা আন্তরিক ভালবাসা এবং গভীর মমতায় এগিয়ে এসেছেন , বিশেষ করে- চিকিৎসা সেবার সাথে সংশ্লিষ্ট সম্মানিত চিকিৎসক, সেবা প্রধানকারী চিকিৎসা সহকারী, মরহুমের সহপাঠী বন্ধু-বান্ধব, সম্মানিত শিক্ষক, বিভিন্ন দরবারের সম্মানিত আওলাদ, বিভিন্ন মাদ্রাসা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এর কর্মকর্তা, জানাজার নামাজ ও দাফন কাজে উপস্থিত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক দলের কর্মকর্তা ও কর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনএর কর্মকর্তা ও সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব, শুভানুধ্যায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষী, পাড়া-প্রতিবেশী, প্রিয় এলাকাবাসী, দূরদূরান্ত থেকে আগত সহমর্মী, সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী ও অসংখ্য শোক সন্তপ্ত ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আপনাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান এবং অশেষ কল্যাণ দান করুন।
আপনাদের গভীর আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও আন্তরিক সহযোগিতার এই স্মৃতি আমাদের জন্য অনেক বড় বেশি মূল্যবান। আমাদের এই কঠিন বিপদের সময় আপনারা যে বড় হৃদয় ও মনের পরিচয় দিয়েছেন তা অভাবনীয় এবং অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মানুষের কষ্টে , দুঃখ ও বিপদে প্রাণপণে ঝাঁপিয়ে পড়ার যে দৃষ্টান্ত আপনারা স্থাপন করেছেন তা আমাদের সমাজকে অনেক বেশি মজবুত করবে। সহযোগিতার এই বন্ধন আগামী দিনগুলিতে নতুন প্রজন্মের চিন্তা ও মননে গভীর রেখাপাত করবে – এতে কোন সন্দেহ নেই। “মানুষ মানুষের জন্য”- এই সত্য বাক্যটি আবারো নতুন করে পুষ্প পল্লবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে: আপনাদের সদয় উপস্থিতি, সহযোগিতা, দোয়া এবং শোকবার্তায়।
উল্লেখ্য, আল্লামা মোহাম্মদ শায়েস্তা খান আল আযহারী আল মাইজভান্ডারী গত ০৩-০৫-২০২৬ খ্রি, রবিবার, চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আল্লামা মোহাম্মদ শায়েস্তা খান আল আজহারী হযরত এয়াছিন শাহ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও পাবলিক কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব এম এ আবদুল ওহ্হাব (র.) এর ষষ্ঠ সন্তান।
মরহুমের প্রথম জানাজার নামাজ ঐদিনই মরহুমের বাসস্থান বনানী আবাসিক এলাকায়, (০৩-০৫-২০২৬ খ্রি., রবিবার) মাগরিব নামাজের পর জামিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় জানাজা, তৃতীয় জানাজা গতকাল ০৪-০৫-২০২৬ খ্রি., সোমবার জোহরের নামাজের পর (বিকেল ২:৩০ টা) হযরত এয়াছিন শাহ পাবলিক স্কুল ও কলেজ মাঠে (এয়াছিন নগর, রাউজান, চট্টগ্রাম) অনুষ্ঠিত হয়। এ সকল জানাযায় সমাজের সর্বস্তরের অসংখ্য শোকাহত মানুষ গভীর মমতা ও ভালোবাসায় অংশগ্রহণ করেন এবং দোয়ায় শরীক হোন।
দ্বিতীয় জানাজার নামাজের পর তাঁর মরদেহ মাইজভান্ডার দরবার শরীফে নেয়া হয়, এবং সেখানে দরবারের সম্মানিত আওলাদ ও ভক্তবৃন্দ গভীর শোক এবং আন্তরিক দোয়া করেন।
জানাজা শেষে আল্লামা গোলাম মোস্তফা মোঃ শায়েস্তা খান আল-আযহারী, আল মাইজভান্ডারীকে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে (এয়াছিন নগর, রাউজান, চট্টগ্রাম) দাফন করা হয়। অসংখ্য মানুষের গভীর ভালোবাসা মমতা এবং আন্তরিকতায় সিক্ত হয়ে শায়িত হন নরম মাটির বিছানায়, ধীরে ধীরে কবরে মাটির আস্তরণ বাড়তে থাকে এবং সকলের প্রিয় “আল্লামা শায়েস্তা খান হুজুর” দৃষ্টির অন্তরালে চলে যান। সকলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে শুরু হয় নতুন আরেক জীবন। শোকের কষ্টগুলো চোখের জল হয়ে ঝাপসা হয়ে উঠে শোকাহত মানুষের দৃষ্টি।!
আল্লামা শায়েস্তা খানের স্মৃতিতে তাঁর মায়ের কোন স্মৃতি নেই। ১৯৭৪ সালে সে যখন মাত্র সাড়ে তিন বছর তখন সে মাকে হারায়। এত কিছু পাওয়ার পরেও মায়ের আদর ও ভালোবাসার অভাবের ক্ষতচিহ্ন তাঁর হৃদয়ে ছায়াসঙ্গীর মতো জড়িয়ে ছিলো সবসময়। মৃত্যুকালে সে দুই মেয়ে এবং এক পুত্র সন্তান, ভাই বোন আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব, ভক্ত ও শিক্ষার্থী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।
গত জানুয়ারির ১৮ তারিখ তার সহধর্মিনী ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর সবচেয়ে ছোট মেয়েটি এখনো খুবই কম বয়স, জীবনের কষ্ট উপলব্ধি করার বয়স হয়নি, এইটুকু ছোট্ট মেয়েটির মা-বাবা দুজনই স্বল্প ব্যবধানে তাঁকে ছেড়ে পরকালে পাড়ি জমিয়েছে। সেই ছোট এখন তার মা বাবাকে হন্য হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে, সকলের কাছে বারবার জিজ্ঞেস করছে তার মা-বাবা আসছে না কেনো? অবুজ এই মেয়েটির প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? স্বল্প সময়ে বাবা-মা হারা এই সন্তানদের সান্ত্বনা দেওয়ার কোন শব্দ নেই ,কোন বাক্য নেই, নেই কোন ভাষা!
আল্লামা মোহাম্মদ শায়েস্তা খান আল আযহারীর নানা হযরত মাওলানা খাইরুল বাশার ফারুকী চরন্দ্বিপী (র), মায়ের দাদা “মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রাণপুরুষ হযরত মাওলানা আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.) এর প্রথম খলিফা শায়খুল হাদিস, আল্লামা শাহ সুফি শেখ অছিয়র রহমান আল ফারুকী চরন্দ্বিপী (ক.)” এবং তাঁর মায়ের নানা হলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার আহলা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হলেন কুতুবুল ইরশাদ, কুতুবে জামান হযরত শাহ সুফী মাওলানা কাজী আছাদ আলী (রহঃ) ।
আল্লামা শায়েস্তা খান ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলাস্থ এয়াছিন নগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মাতার নাম মোছাম্মৎ খোদেজা খানম (মৃত্যু ১৯৭৪ খ্রি.)। তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় পশ্চিম ডাবুয়া আমিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গর্জনীয় মাদ্রাসা থেকে। পরবর্তীতে ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মূঈনীয়া কামিল (এম এ) মাদ্রাসা, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা এবং মিশরের বিশ্ববিখ্যাত আল আযহার বিশ্ববিদ্যালয় এসে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে।
পড়ালেখা শেষ করে তিনি জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসায় দীর্ঘ সময় শিক্ষকতা করেন। কৃতজ্ঞতা জীবনের জীবনে প্রতিটা ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষুরধার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন।
বয়সের বিবেচনায় স্বাভাবিক প্রত্যাশায় যাঁর যাওয়ার কথা পরে সে এত তাড়াতাড়ি চলে যাবে, তার কোন ক্যালকুলেশনে ছিল না! আমাদের পরিবারে বিশাল এক শূন্যতা সৃষ্টি করে সে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে। মনকে কোনভাবেই প্রবোধ দিতে পারছি না কেউই, কী অসহনীয় মনোবেদনা, নিজের অজান্তেই চোখ ভিজে উঠতে বারবার।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন, আমিন!
প্রফেসর ড. নূ ক ম আকবর হোসেন
এয়াছিন নগর, রাউজান, চট্টগ্রাম
তারিখ: ০৫-০৫-২০২৬ খ্রি., রবিবার
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here