পদ্মার তীরবর্তী জেলেপাড়ার পটভূমি পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের স্রষ্টা মানিক বন্দোপাধ্যায়
অঞ্জন আচার্য
দুই বছরের মাথায় শ্যামার আর একটি সন্তান হয়। তার নাম রাখে বিধানচন্দ্র। এরপর এক মেয়ে ও এক ছেলের জন্ম হয়, নাম রাখা হয় তাদের বকুলমালা ও বিমানবিহারী। কিন্তু প্রথম সন্তানের কথা কখনোই ভুলতে পারে না শ্যামা; বরং সেই অভিজ্ঞতা দিয়েই পরবর্তী সন্তানদের লালন-পালন করে সে। যার কারণে বিধানের জন্মের পর কোনো উচ্ছ্বাস দেখায় না শ্যামা, যদি এবারও দেবতার পরিহাসে পড়ে সেই ভয়ে। শীতল যখন বলে এ ছেলের পয় আছে, তখনো শ্যামার ভয় হয়; সে উচ্ছ্বসিত হয় না, বরং ছেলেকে বাঁচার কথা বলে। শ্যামার নিজের মনেও জাগে যে, বিধান ভাগ্যবান ছেলে, কিন্তু ভয়ের কারণে সে উচ্ছ্বসিত হয় না। এই দ্বিতীয় সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কালীঘাটে ও তারকেশ্বরে পূজা মানত করে শ্যামা। এমনকি নিজে গোটা পাঁচেক মাদুলি ধারণ করে হাতে। প্রতিদিন মাদুলি ধোয়া জল খায় সে, আর একটি একটি মাদুলি ছেলের কপালে ছুঁইয়ে নিশ্চিত হয়। একদিন শিশু বিধানের জ্বর হলে সন্তানের হারানো আশঙ্কায় ঠান্ডা হয়ে যায় শ্যামা। সেই যাত্রায় বিধান বেঁচে যায়। একটু একটু করে বেড়ে ওঠে বিধান। তবে বিধানের ভেতর দেখা যায় বিভিন্ন অসংলগ্ন আচরণ। এর জন্য চিন্তার শেষ ছিল না তার। স্বাভাবিক নিয়মেই বিধান একসময় বড় হয়। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পায়। এরপর বিয়ে করে। বিধানের স্ত্রী সুবর্ণর মা হওয়ার দীর্ঘ পরিক্রমার মধ্যে নানা প্রসঙ্গে উঠে আসে উপন্যাসের নানা দিক।
পুরো সারাংশ টানলে উপন্যাসটিকে মোটামুটি ১০টি পর্বে ভাগ করা যায়। প্রথম পর্বে শ্যামার প্রথম সন্তান হওয়ার কথা রয়েছে। শ্যামার এই সন্তানটি মাত্র ১২ দিন বেঁচে ছিল। এ কথা আমি কয়েকবার উল্লেখ করেছি। দ্বিতীয় পর্বে দুই বছরের মাথায় শ্যামার কোলে আরো একটি ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। এই সন্তানকে ঘিরেই দ্বিতীয় পর্বটি সাজানো হয়েছে। তৃতীয় পর্বে এসে আমি কয়েক বছর পরের ঘটনা বর্ণনা করি। পর্বের শুরুতেই আমি বলি : “কয়েক বৎসর কাটিয়াছে। শ্যামা এখন তিনটি সন্তানের জননী। বড় খোকার দুবছর বয়সের সময় তাহার একটি মেয়ে হইয়াছে, তার তিন বছর পরে আর একটি ছেলে। নামকরণ হইয়াছে তিনজনেরই—বিধানচন্দ্র, বকুলমালা ও বিমানবিহারী। এগুলি পোশাকী নাম। এ ছাড়া তিনজনের ডাকনামও আছে, খোকা, বুকু ও মণি।” চতুর্থ পর্বে এসে নাটকীয়ভাবে ঘটে শ্যামার একমাত্র রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় মামা তারাশঙ্করের আগমন। এই মামা একদিন তার সহায়-সম্বল সব বিক্রি করে কাউকে কিছু না বলে নিরুদ্দেশ হয়েছিল। এ পর্বটি শেষ হয় মেয়ে বকুলকে নিয়ে শ্যামার স্বামী শীতলের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে। পঞ্চম পর্বে স্বামীহীন সংসারে শ্যামার কঠিন জীবনযাপনের বর্ণনা। পর্বটি শেষ হয়েছে শীতলের ফিরে আসা এবং পুলিশে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার বিবরণ দিয়ে। ষষ্ঠ পর্বে শ্যামার জীবনসংগ্রামে অংশ নিতে দেখা যায় তার মামা তারাশঙ্করকে। সপ্তম পর্বে একরকম বাধ্য হয়ে শ্যামা কলকাতার বাড়ি ভাড়া দিয়ে বনগাঁ তার ননদের সংসারে আশ্রয় নেয়। এ পর্বের শেষে দেখা যায়, শীতল জেল থেকে ছাড়া পায়, কিন্তু সে ভয়ংকর অসুস্থ। অষ্টম পর্বে শ্যামা তার কলকাতার বাড়ি বিক্রি করে দেয়। মেয়ে বকুলের বিয়ে এ পর্বের মূল ঘটনা। নবম পর্বে বড় ছেলে বিধানচন্দ্রের চাকরি হয়। দশম পর্বে ঘটে বিধানের বà¦
