ডয়চে ভেলে রির্পোট
হারুন উর রশীদ স্বপন

বরাবরের মতো এবারও রোজার শুরুতেই নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বেড়েছে৷ কিন্তু বাজারে এইসব পণ্যের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন খোদ ব্যবসায়ীরা৷ তারপরও পণ্যের দাম কেন রোজায় বাড়ে?

রোজার কয়েকদিন আগে থেকেই নিত্যপণ্যসহ কাঁচা সবজির বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে৷ একইসঙ্গে দাম বেড়েছে মাছ ও মুরগির মাংসের৷ গরুর মাংসের দাম বেঁধে দেয়া হলেও সুযোগ বুঝে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম নিচ্ছেন৷ দাম বেড়েছে ছোলাসহ ডাল জাতীয় ভোগ্যপণ্যের৷ এই পরিস্থিতি চলবে পুরো রমজান মাস জুড়ে৷

কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এবার রমজানে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে৷  নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের কোনো ঘাটতি নেই৷ আমদানী করা এবং দেশে উৎপাদিত পণ্য সবকিছুর সরবরাহ পর্যাপ্ত৷”

‘পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে’

তারপরও দাম বাড়ছে কেন রমজানে? শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘রোজার মাসে ভোগ্যপণ্য কেনার যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে৷ তিনমাসে যা কেনেননি তা একমাসে কিনছেন সাধারণ মানুষ৷ আমরাদের তো পাগল হওয়ার মতো অবস্থা৷ ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ভোগ্যপণ্য সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি৷”

তিনি আরো বলেন, ‘‘এই মাসে মানুষ বেশি কিনছেন৷ কেউ পুরো মাসের বাজার  একসঙ্গে করছেন৷ কেউ প্রয়োজনের চেয়েও বেশি কিনছেন৷ আবার সাধারণ মাসের চেয়ে রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের ব্যবহারও বেশি হয়৷ এসব কারণে জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়ে যায়৷” তবে তাঁর দাবি, এবার পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়েনি৷

আর ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি নেসার উদ্দিন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এবার নতুন করে ডাল আমদনি করতে হয়নি৷ আমরা গত বছর যে বিভিন্ন ধরনের ডাল আমদানি করেছি তা থেকেই চাহিদা পূরণ হচ্ছে৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যানজট৷ আমাদের চট্টগ্রাম থেকে ডাল ঢাকায় আনতে হয়৷ রোজার কয়েকদিন আগে থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট শুরু হয়েছে৷ ফলে পরিবহণ খরচ বেড়ে গেছে৷ এ কারণে দামও কিছুটা বেড়েছে৷ তবে আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার রোজায় দাম তেমন বাড়েনি৷”

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুচরা দোকানগুলোয় প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮৫ টাকায়৷ প্রতি লিটার সয়াবিন ১০৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে৷ আর পাঁচ লিটারের বোতল কোনো কোম্পানি ৫৪০ টাকা, কোনও কোম্পানি ৫৫০ টাকায় বিক্রি করছে৷ প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ থেকে ৯০ টাকায়৷

‘সমস্যা হচ্ছে যানজট’

রমজানে বেড়েছে মসুর ডাল, কাঁচা মরিচ, শসা, বেগুন ও লেবুর চাহিদা বেড়েছে৷ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪০ টাকার প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ৩৫-৪০ টাকার কাঁচামরিচ ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ২০-২৫ টাকার হালি দরের লেবু ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে৷ মসুর ডাল মুদি দোকানগুলোয় ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেলেও রাজধানীর বিভিন্ন সুপারশপে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি করতে দেখা গেছে৷ ৩২ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরের দেশি পেঁয়াজ এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে৷

ঢাকার হাতিরপুল সবজি বিক্রেতা রহমত আলী বলেন, ‘‘ রোজার সময় সবাই কম-বেশি বাজার করে৷ এর ফলে এ সময় সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বাড়ে৷ আর চাহিদা বাড়লে বাড়ে পণ্যের দাম৷ আমরা সারা বছর যা বিক্রি করি তার বড় একটি অংশ এই রমজান মাসে বিক্রি করি৷ মানুষ কেনেও বেশি৷ আর আমরাও এই সময়েই মূলত ব্যবসা করি৷ এ আর নতুন কী!”

আর শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী আলি হোসেন বলেন,‘‘ক্রেতার হাবভাব দেখে মনে হয়, বাজারে সব পণ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে৷ কিনতে না পারলে না খেয়ে থাকতে হবে৷ অনেক সময় ক্রেতারা দাম-দর জিজ্ঞেস না করেই অতিরিক্ত পরিমাণ পণ্যের অর্ডার দিতে থাকেন৷ এক কেজির স্থলে দুই কেজি, দুই কেজির স্থলে ৫ কেজি, ৪ কেজির স্থলে ১০ কেজি à¦