আলোকিত বোয়ালখালী ডেস্ক
সেতুটিতে ট্রেনের পাশাপাশি সাধারণ যানবাহনও চলে। সেতুর একপাশে গাড়ি উঠলে আরেকপাশ বন্ধ থাকে। ফলে দীর্ঘ যানজটের ভোগান্তি চলছে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে।

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা হাসিনা বেগম। ছেলের বউকে নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে এসেছিলেন ডাক্তার দেখাতে। ডায়বেটিস ও উচ্চরক্ত চাপে ভোগা এই নারী দীর্ঘ প্রায় চার ঘন্টা অপেক্ষা করেও কালুরঘাটে নতুন চালু করা ফেরিঘাট পার হতে পারেননি।

তিনি টিবিএসকে বলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে এতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করা খুব কষ্টের। মুমূর্ষু কোনো রোগী হলে তো ঘাটেই মারা যাবে। কালুরঘাটে নদী পারাপারের এই ভোগান্তি ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি। সরকার এসেছে, গেছে। আমাদের ভাগ্যের বদল হয়নি। বোয়ালখালীতে জন্ম নেওয়াটাই যেন আমাদের পাপ।’

বুধবার (২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে শত বছরের পুরোনো কালুরঘাট সেতু সংলগ্ন ফেরি ঘাট এলাকায় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে তার কথা হয়। এদিন অনেক যাত্রী নিজেদের ভেগান্তির কথা প্রতিবেদককে জানান।

চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার একাংশের যোগাযোগের মাধ্যম এই কালুরঘাট সেতু। সড়ক পথের সব ধরনের যানবাহনের পাশাপাশি এই সেতু দিয়ে ট্রেনও চলত এতদিন। সেতুর সংস্কারকাজের জন্য মঙ্গলবার (১ আগস্ট) বেলা ১১টায় সেতুতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিকল্প হিসেবে কর্ণফুলী নদীতে চালু করা হয়েছে ফেরি। তবে ফেরি সল্পতা ও জোয়ারে সংযোগ সড়ক-পল্টুন ডুবে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ।

ছবি: মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন/টিবিএস

বুধবার (২ আগস্ট) বেলা একটার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, ফেরিঘাট থেকে আরাকান সড়ক পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার গাড়ির লম্বা সারি। এর মধ্যে ছিল মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ, পণ্যবাহী ট্রাক, টেম্পো, মাইক্রোবাস ইত্যাদি। ফেরিঘাট থেকে মূল সড়ক (আরাকান সড়ক) পর্যন্ত গাড়ির লম্বা সারি। এর মধ্যে অনেক গাড়ি সকাল ৮ টা থেকে এসে দাঁড়িয়ে ছিল। অটোরিকশা, টেম্পো ও মাইক্রোবাসগুলোতেও ছিল যাত্রী। জোয়ারের পানিতে ফেরিতে পৌছানোর পাটাতন কোমর পানিতে ডুবে গেছে। আটকা পড়েন চাকরীজীবি ও শিক্ষার্থীরাও।

বেলা ১২ টা দিকে কয়েকটি যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে কর্ণফূলীর শহরমুখী প্রান্ত থেকে একটি ফেরি ছেড়ে যায়। কিন্তু জোয়ারে বোয়ালখালী প্রান্তের পাটাতন ও সংযোগ সড়ক ডুবে যাওয়ায় ফেরি তীরে ভিড়তে ব্যর্থ হয়। পরে ফেরিটি আবারও শহর প্রান্তে ফিরে আসে। এসময় মালবোঝাই কাভার্ডভ্যান, টেম্পু ও মোটরসাইকেল চালকরা বাধ্য হয়ে কোমর পানিতে গাড়ি চালিয়ে তীরে ফেরার চেষ্টা করেন। এসময় বেশ কয়েকটি গাড়ির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যায়।

তেমন একটি টেম্পুর চালক জাহাঙ্গির বলেন, স