আবো প্রতিবেদন

আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ সরকারের ক্ষমতাও কমেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার চাইলেও এখন বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বদলি করতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি লাগবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সরকার এখন মেজর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আর যেগুলো পলিসি সংক্রান্ত যেমন আমাদের জনপ্রশাসন আছে, তারপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, জনপ্রশাসনের যে স্বাভাবিক কার্যক্রমগুলো হচ্ছে সেগুলো হবে। আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে রেগুলার কাজগুলো হচ্ছে, সেগুলো তারা করবে। এই রেগুলার কাজ করার ক্ষেত্রে, জনপ্রশাসন চলার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যদি কিছু বলে সেটা তাদের ফলো করতে হবে। কারণ এখন জনপ্রশাসন হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।’
তিনি বলেন, ‘আর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত যদি কিছু হয়, যেখানে নির্বাচনে তার সম্পৃক্ততা থাকবে, সেক্ষেত্রে নিশ্চয়ই নির্বাচন কমিশন বলবে। যেটা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, সেখানে যদি প্রশাসন যদি কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, সেটা তারা নিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যদি বলে এটি করা যাবে না, তখন তাদের সেটি অনুসরণ করতে হবে।’
মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘সরকারের যেসব প্রকল্প রয়েছে, যেগুলোর বরাদ্দ আছে, যেগুলোর কাজ চলছে, সেগুলোর কাজ চলবে।’
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ‘প্রশাসন তো পুরো নির্বাচন কমিশনের অধীনে আছে এখন। প্রশাসন না শুধু, নির্বাচনী এলাকায় যে কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করতে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন লাগবে।’
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং নির্বাচনী বিধিমালার আলোকে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি, পদায়নসহ কিছু কিছু কাজে সরকারকে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সরকারের রুটিন কাজগুলো চালিয়ে নিতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতির প্রয়োজন হবে না।
সরকারের রুটিন কাজ কী?
সরকারের রুটিন কাজগুলো কী? জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী আলাদাভাবে কিছু করার নেই।’
রুটিন কাজের ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘গতানুগতিক অফিস চলার ব্যাপারে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বেতন পাওয়ার ব্যাপারে, প্রতিদিনকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে, এসব বিষয়ে অবশ্যই এ সরকার কাজ করবে। উন্নয়ন কাজ যেগুলো আছে, সেগুলো চলমান থাকবে।’
তবে নতুন করে কোনো উন্নয়ন কাজ শুরু হবে না এবং নতুন করে কোনো প্রকল্প নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দলের পক্ষে যা কিছু নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, এ রকম কাজ আমরা করবো না।’
তিনি বলেন, ‘যেহেতু তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, এরপরে নির্বাচনের কাজকর্ম নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে করবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের কাজে যেসব সরকারি বিভাগ, সংস্থা বা অফিস তাদের প্রয়োজন হবে এবং নির্বাচন প্রভাবিত হবে না, সেইসব নির্বাচন কমিশন করবে। যে সরকার আছে, সেই সরকার গতানুগতিক রুটিন কাজগুলো করে যাবে। আর গণতন্ত্রে মূল বক্তব্য যখন নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এখন থেকে রুটিন কাজ করে যাবে।’
নির্বাচনকালীন সরকারের ইতিহাস
দেশ স্বাধীনের পর সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান ছিল। ১৯৯১ সালে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এরশাদের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হন। তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সব বিরোধী দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তিনি এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বা ‘নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় কেয়ারটেকার’ সরকার ব্যবস্থা গঠন করেন। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি।
২০০১ ও ২০০৬ সালেও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। এর মধ্যে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাত
