মহসীন কাজী:

সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার সৈয়দ মহিউদ্দিন ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার খবর জানতে ফোন দিই শিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আলাউদ্দিন তাহেরকে। জানলেন, এই গুণী মানুষের অসুস্থতার বিস্তারিত। শারীরিক নানা সমস্যায় ভূগছেন মহিউদ্দিন ভাই। শুয়ে থাকতে থাকতে পিঠের ঘা বেড়ে গেছে। মূলত সেটির চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অনেক জনপ্রিয় মাইজভাণ্ডারি ও আঞ্চলিক গানের স্রষ্টা মহিউদ্দিন ভাণ্ডারির পাশেও নাকি তেমন কেউ নেই। আঞ্চলিক গানের রাজা খ্যাত প্রয়াত শ্যামসুন্দর বৈষ্ঞবের ছেলেরাই সন্তানের মতো অকৃতদার শিল্পীকে আগলে রেখেছেন। চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন এবং সেবা শুশ্রুষা দিচ্ছেন।

মহিউদ্দিন ভাইয়ের কথা বলতে বলতে জানতে চাইলাম শিল্পীদের অবস্থার কথা। জানতে চাইলাম এই করোনা মহামারিতে চট্টগ্রামের শিল্পীরা কেমন আছেন।

শিল্পীদের নিয়ে আলাউদ্দিন তাহের যা শোনালেন তা আরও করুণ। তার মতে, টানা তিনমাস চট্টগ্রামের শিল্পীরা কার্যত বেকার। বেতার, টিভি এবং মঞ্চ কোথাও অনুষ্ঠান নেই। কণ্ঠশিল্পী, যন্ত্রশিল্পী সবাই বেকার। তাদের সাথে বেকার হয়ে পড়েছেন সাউন্ড সিস্টেম ও লাইটের সাথে সংশ্লিষ্টরাও।

শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বললেন, গত তিনমাসে চট্টগ্রামের শিল্পীদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। তাদের জুটেনি যেমন সরকারি কোনো সহায়তা তেমনি পায়নি ব্যক্তি পর্যায়ের কারও সহযোগিতা। শিল্পীরাই নাকি শিল্পীদের সাথে ছিল এবং আছে। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল শিল্পীরা অন্য শিল্পীদের পাশে থেকেছেন। এতদিন যারা সতীর্থদের পাশে ছিল তাদের অবস্থাও নাকি করুণ হতে শুরু করেছে। আরেকমাস এ অবস্থা চললে এ অংশের অনেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খাবেন।

সম্প্রতি লকডাউন খোলার পর চট্টগ্রামের শিল্পীদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে সমিতির নেতারা বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রর জিএমকে অনুরোধ করেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবার অনুষ্ঠান রেকডিংয়ের। জিএম কিছু একটা করার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করছেন। কোনো সিদ্ধান্তই দিচ্ছেন না বলে জানান আলাউদ্দিন তাহের।

আলাউদ্দিন তাহের জানান, শিল্পী ও যন্ত্রীরা পার্মানেন্ট কোনো চাকরি করেন না। তারা বেতার, টিভি, মঞ্চ সর্বত্রই গেয়ে এবং বাজিয়ে সম্মানী পান। চট্টগ্রাম টিভি কেন্দ্রে নাকি অনেকেই শিল্পীদের সম্মানীরে অংশ থেকে মাসিক বেতন পান। এবার নাকি শিল্পীদের বাজেটের বিশাল অংকও ফেরত যাবে।

এদিকে করোনা দুর্যোগের মধ্যে এরই গত হয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী দীপক আচার্য, আবদুর রশীদ খান ও সোমবার মারা যান পল্লী গীতি শিল্পী জাবেদ হোসেন। এসব শিল্পীর পরিবারের পাশেও দাঁড়ানো প্রয়োজন সরকার ও সংশ্লিষ্টদের।

পাশাপাশি অসহায় শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টিও জরুরি।

-মহসীন কাজী : সিনিয়র সাংবাদিক

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here