অধ্যক্ষ শেখ এ. রাজ্জাক রাজু

সময় বহতা নদীর মত চলমান। এইতো সেই দিন ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০খ্রি. বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মোটেল সৈকত কনভেনশন হলে প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া’র হীরক জয়ন্তী উদযাপন ও আজীবন সম্মাননা প্রদান। অনুষ্ঠানের সদস্য সচিব হিসেবে স্যার আমাকে যে গুরু দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন, সেই মহিয়ান, গরিয়ান শিক্ষায় শক্তিমান- যাঁর স্নেহধন্য হয়ে স্যারের অনুপ্রেরণায় শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছিলাম কলেজ অধ্যাপনায় সেই ’৯০ দশকের প্রথমার্ধে; তিনি আর কেউ নন, আমার প্রাণপ্রিয় শ্রদ্ধাভাজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবতাবাদী সংগঠক, দেশে-বিদেশে বহুপুরস্কার ও সম্মাননা উপাধিপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী আমার প্রিয় শিক্ষক-যিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক “শিক্ষায় একুশে পদক-২০২০” প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া।
গত বছর চীনের উহান শহর থেকে ধেঁয়ে আসা মহামারী করোনা ভাইরাসে তান্ডবলীলায় গোটাবিশ্বে প্রায় ৩৮ লক্ষ লোকের প্রাণহানী হয়েছে। বাংলাদেশেও এই করোনার কষাঘাতে প্রায় ১৩ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে এবং সংক্রমণের হারও উর্ধ্বগতি। এই সংকটময় মূহুর্তে স্যারকে ভীষণ মনে পড়ায় আমরা বন্ধু চবি গবেষক ভাষ্কর ডি.কে দাশ মামুন ও আমার আরেক বন্ধু আলোকিত বোয়ালখালী পত্রিকার সম্পাদক, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনুসন্ধানী গবেষক মো. তাজুল ইসলাম রাজুসহ আমরা স্যারকে এক নজর দেখার জন্য আজ ১৯ জুন বিকাল ৪ ঘটিকায় চট্টগ্রাম আশকার দীঘির পাড় স্যারের বাসায় তিনবন্ধু উপস্থিত হলাম। দামপাড়া পুলিশলাইন কুটুমবাড়ী রেস্তোরা থেকে চা-নাস্তা খেয়ে বৃষ্টিতে ভিজে তাজুল মোটরসাইকেলে চড়ে, আমি আর মামুন রিক্সাযোগে স্যারের বাসায় উপস্থিত হলাম। স্যার সেই শিক্ষক সুলভ আচরণে আমাদেরকে সোফায় বসতে দিয়ে বললেন, রাজু, মামুন, তাজুল তোমরা কেমন আছো? স্যারকে সম্মান জানিয়ে বললাম,আমরা ভালো আছি। স্যার, আপনি ভালো আছেন তো?
যা হোক, গত বছর স্যারের হীরকজয়ন্তী ও আজীবন সম্মাননা স্মারক গ্রন্থটি আমার আর এক বন্ধুবর বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া’র নিখুঁত সম্পাদনায় ‘বিভাসিতবিকিরণ’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়- যা একটি অমূল্য কর্মের সাক্ষ্য বহন করে। আলোকচিত্রী রঞ্জন বড়ুয়া’র প্রকাশনা সংস্থা ‘পূর্বা’ থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থটির সার্বিক নির্দেশনায় ছিলেন হীরকজয়ন্তী উদযাপন ও আজীবন সম্মাননা পর্ষদের সম্মানিত সভাপতি ও সদস্য সচিবয থাক্রমে ইউএসটিসি’র সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ডাঃপ্রভাত চন্দ্র বড়ুয়া ও অধ্যক্ষ শেখ এ. রাজ্জাক রাজু। স্যারের আত্মজীবনী লেখক ভাষ্কর ডি.কে দাশ মামুন এবং এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার মানসে যাঁরা ওতোপ্রোতভাবে সহযোগিতা করেছেন- তাঁদের কাছে আমরা ঋণে আবদ্ধ।
‘বিভাসিতবিকিরণ’ গ্রন্থটিতে আমার লেখা“স্যারকে যেমন দেখেছি- আজো ভুলিনি”- বইটি স্যারের বাসায় স্যার, মামুন এবংআমি, আলোকিত বোয়ালখালী পত্রিকার সম্পাদক ও সাহিত্য প্রেমী মো. তাজুল ইসলাম রাজু’র হাতে তুলে দিলাম-গ্রন্থটি বিশ্লেষণ পূর্বক পত্রিকায় প্রকাশের জন্য।
সময়ের কাছে আমরা সকলেই বন্দি। তবুও কিছু কথা, কিছু স্মৃতির যোগাবে যুগ-যুগ ধরে আমাদের হৃদয়ের মণিকোঠায় মনেরঅজান্তে।

লেখক: প্রফেসর শেখ এ. রাজ্জাক রাজু; অধ্যক্ষ- হালিশহর সেন্ট্রালকলেজ, চট্টগ্রাম।

শিক্ষা উদ্যোক্তা, প্রাবন্ধিক ওপিএইচডিগবেষক

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here