মনজুর আলম: গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বোয়ালখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক-উপ সড়কগুলোর নাজুক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে ক্ষত-বিক্ষত এসব সড়ক দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, একদিকে উপজেলার আভ্যন্তরীণ সড়ক -উপসড়কগুলো যথাযথ সংস্কারের অভাবে এমনিতেই নাজুক অবস্থা, এর উপর বিগত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে এসব সড়কের অস্তিত্বই এখন বিলীন হওয়ার পথে এসে ঠেকেছে। সরকারি এক হিসেব মতে উপজেলার ২৯১ কিলোমিটার কাঁচা, ১৪০ কিলোমিটার আধা পাকা ও ৫৫ কিলোমিটার পাকারাস্তা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এর ব্যতিক্রম হিসেব পরিলক্ষিত হয়েছে।

সরকারি খাতায় পাকা রাস্তাগুলোর বিটুমিন আর আধাপাকা রাস্তাগুলোর ইট সুড়কি উঠে গিয়ে সড়কজুড়ে এখন বড়-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে তাতে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে আছে। অপরদিকে কাঁচা রাস্তাগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পথে এসে ঠেকেছে। এমনকি উপজেলা সদর ও পৌর সদরের অনেক সড়কের অবস্‌হা এখন শোচনীয় হয়ে পড়েছে।

প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কগুলো কাদা-পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে লেখা-লেখি ও মাতামাতি অনেক হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই যেন কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙানো যাচ্ছে না। ফল এসব সড়ক-উপ সড়ক দিয়ে যাতায়াতে পথচারীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ এসব সড়কগুলোর নামে সরকারি খাতে টি আর,কাবিকা-কাবিটা, কিংবা অন্যান্যখাত হতে সরকারি বরাদ্দ কিংবা অনুদান ঠিকই আছে,কিন্তু সুষ্ঠু তদারকি কিংবা যথাযথ নজরদারির অভাব অথবা সংশ্লিষ্ট তদারকির কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গোপন চুক্তির হিসেব মতে হালুয়া্‌-রুটির ভাগ -ভাটোয়ারার ফলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

কোন কোন ঠিকাদার সড়ক বা রাস্তায় লোক দেখানো সামান্য কাজ চালালেও অনেকক্ষেত্রে বরাদ্দের পুরো টাকাটাই হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু অভিযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থাকলেও এ যাবৎ কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা তা কেউ জানেনা। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে, সরকারি খাতায় নাম আছে বরাদ্দ ও হচ্ছে নিয়মিত, কিন্তু সড়কগুলো দিয়ে ভালভাবে গাড়ি চলাচল করবে দূরে থাক মানুষ পর্যন্ত চলাচল করতে কষ্ট হচ্ছে।

তারপর ও এসব সড়ক নিয়ে সুন্দর রাজনীতি চলে। নির্বাচনের সময় এসব সড়ক নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে প্রার্থীদের দর কষাকষির সুবিধা হয়। শর্ত উঠে ভোট দেবেন রাস্তা নতুন করে তকতকে ঝকঝকে করে দেব। কিন্তু নির্বাচনে জিতে বেমালুম সব ভুলে যান। লোক দেখানো যত সামান্য কাজ হলেও এতে জনগনের ভোগান্তি বাড়িয়ে তোলে। প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত হলে জনগণকে আশ্বস্ত করে- ‘আর কটাদিন সবুর কর রসুন বুনেছি’ এলাকাবাসী সবুর করে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর। কিন্তু সে মেওয়া আর ফলেনা। ফলে এলাকার এসব জনগনকে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উপজেলার বিভিন্ন অলি-গলির ভঙ্গুর এসব রাস্তাঘাট সড়ক-উপ সড়কগুলো বহু কষ্টে পাড়ি দেয়া ছাড়া কোন গত্যান্তর থাকে না।

খবর দৈনিক আজাদী

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here