নিজস্ব প্রতিবেদক :

বোয়ালখালীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১শত ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন। এ নিয়ে উপজেলায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১২০ জন।

উপজেলায় প্রথম করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত শনাক্ত হয় গত ১৪ এপ্রিল। এরপর থেকে রবিবার (৭ জুন) পর্যন্ত আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১২০ জন। এর মধ্যে সুস্থতার তালিকায় রয়েছে ১০ জনের নাম।

উপজেলার প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে ৭০ বছরের ওই বৃদ্ধ বর্তমানে করোনা জয়ী হয়ে সুস্থ রয়েছেন। তিনি নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নমুনা দিয়েছিলেন কোভিড-১৯ পজেটিভ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে নগরীর জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকেন এবং পরবর্তী নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ নেগেটিভ বলে জানা যায়।

১৪ এপ্রিল থেকে ৭জুন পর্যন্ত বোয়ালখালীতে ১২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.জিল্লুর রহমান।

রবিবার বোয়ালখালীতে ২৪ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ আসে। যা বোয়ালখালীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে গত ২জুন পর্যন্ত ১০জন সুস্থ হয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জিল্লুর রহমান।

এছাড়া ২ জুন ১জন ও ৩ জুন আরো একজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানান তিনি।

ডা.জিল্লুর বলেন, উপজেলার করোনায় আক্রান্ত ৯১ জন হোম আইসোলেশনে ও ১৯জন হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছেন।

রবিবার পর্যন্ত ৪০১ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সংগৃহীত নমুনার মধ্যে ৩১৩টি নমুনার ফলাফল পাওয়া গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বোয়ালখালী পৌর এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পৌর এলাকায় রবিবার পর্যন্ত ৬২ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে । ১৩ জন শনাক্ত হওয়ায় ২য় অবস্থানে রয়েছে পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়ন। ৮ জন শনাক্ত হওয়ায় ৩য় অবস্থানে রয়েছে সারোয়াতলী ইউনিয়ন। এর পরের অবস্থানে রয়েছে শাকপুরা ইউনিয়ন। শাকপুরায় শনাক্ত হয়েছেন ৭ জন। কধুরখীল ইউনিয়নে ৬জন ও খরণদ্বীপ-শ্রীপুর ইউনিয়নে ৬ জন। আমুচিয়ায় ৪জন ও চরণদ্বীপ ইউনিয়নে ৪জন শনাক্ত হয়েছেন। পোপাদিয়া ইউনিয়নে ৩জন ও আহলা কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের ২জন শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া নগরীতে অবস্থানকারী বোয়ালখালীর বাসিন্দা আরো ৫ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়েছে।

উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে বোয়ালখালী থানায় কর্মরত ১৯ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া আক্রান্তদের সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৪জন চিকিৎসক ও ৫ জন কর্মচারী।

জানা গেছে, বোয়ালখালীতে আক্রান্ত বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়ছে না সুস্থতা। তবে ফলোআপ নমুনা পরীক্ষা না করায় প্রকৃত সুস্থতার তথ্য জানা যাচ্ছে না। নমুনাজটের অজুহাতে অনেক পজেটিভ রোগীর নমুনা ২য় বারের মতো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পজেটিভ রির্পোটের মাস পেড়িয়ে গেলেও নিরাময়ের তথ্য জানা যাচ্ছে না। অথচ নগরীর কাছের উপজেলা হওয়ায় বোয়ালখালীতে নমুনা পরীক্ষার জন্য জমা দিচ্ছেন নগরীর বাসিন্দারাও। করোনা আক্রান্ত কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নমুনা পরীক্ষা ২য় বার করা না হলেও শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন তারা।

এদিকে বোয়ালখালীতে আক্রান্তের হার বাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড করার উদ্যােগ নিয়েছেন সাংসদ মোছলেম উদ্দিন আহমদ। আইসোলেশন ওয়ার্ডের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পৌর প্যানেল মেয়র শাহজাদা এসএম মিজানুর রহমান।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here