নিজস্ব প্রতিবেদক: বোয়ালখালীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আহম্মদ উল্লাহ মামুন(৩৫) নামের এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার (৫ এপ্রিল) তাকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।

রবিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরণদ্বীপ ফকিরাখালী এলাকায় থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আল আমান অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। আহম্মদ উল্লাহ মামুন ওই এলাকার শহিদ উল্লাহ’র ছেলে।

উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আল আমান বলেন, আহম্মদ উল্লাহ মামুন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছিলো। সম্প্রতি সে দেশে এসে নিজের বাড়িতে অবস্থান করার খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান চালানো হয়। রবিবার রাত দেড়টার দিকে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। ওই সময় সে গ্রেফতার এড়াতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।

২০১২ সালে আহম্মদ উল্লাহ মামুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলা নং ৯৯১/২০১২ দায়ের হয়। ওই মামলায় ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল নং-১ চট্টগ্রাম আদালত আহম্মদ উল্লাহ মামুনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ওই মামলার রায়ে বলা হয়, ‘আরোপিত অর্থদণ্ড অভিযোগকারীনীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্মলাভকারী শিশু তার মাতা কিংবা তার মাতৃকুলীয় আত্মীয় স্বজনের তত্ত্বাধানে রাখবে। উক্ত শিশু তার পিতা আহম্মদ উল্লাহ ও মাতা ভিকটিম উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হবে। শিশুটি মেয়ে হওয়ায় তার বিয়ে না হওয়া পর্যন্ত ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে।’

রায়ে ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে জন্মগ্রহণকারী শিশুর ভরণপোষণ ও ভিকটিমের আরোপিত ক্ষতিপূরণের টাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামীর নিকট থেকে অথবা তার অর্জিত সম্পদ থেকে অথবা তিনি ভবিষ্যতে যে সম্পদের মালিক হবেন তা থেকে আদায় করে ক্ষতিগ্রস্থ ভিকটিমকে প্রদানের নিমিত্তে ট্রাইবুনালে জমা প্রদানের জন্য জেলা কালেক্টর চট্টগ্রামকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here