মুহম্মদ ইসহাক চৌধুরী

ইতিহাস :

নদী গড়ে আর ভাঙ্গে। তাই বলে “এই তাে নদীর খেলা” প্রায় হাজার বছর পূর্বের কথা। পার্বত্য অঞ্চল লুসাই পাহাড় থেকে নেমে আসা এক খরস্রোত ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হতে হতে কালে কর্ণফুলী নামে পরিচিতি লাভ করে। এটি একটি নদীর নাম। এর শত মাইলের মাথায় দক্ষিণকুলঘেঁষে জেগে উঠেছিল একবিস্তির্ণ চরাঞ্চল। আর দক্ষিণ-সীমান্ত দিয়ে এক স্রোতস্বিণী বড়খাল ধেয়ে গিয়ে কর্ণফুলীতে পৌঁছে গেলে চরাঞ্চল পৃথক হয়ে যায়।

মশহুর জনশ্রুতি আছে যে, বার আউলিয়ার বিখ্যাত সাধক পুরুষ হযরত শাহ্ চাঁদ আউলিয়া (রঃ) শংখ নদীর চাঁদখালীর মুখে আসেন। তিনি এখানে দেখতে পেলেন এক বড় বােয়াল মাছ খালের মুখে ঘুরাঘুরি করছে। অমনি তিনি উক্ত বােয়াল মাছের পিঠে জায়নামাজখানি পেতে দিলেন এবং এর উপর আরােহন করে বর্তমান ইন্দ্রপুল পর্যন্ত পৌঁছে গেলে মাছটিকে ছেড়ে দেন আর মাছটি পুনঃ ফিরে না গিয়ে সামনে অগ্রসর হয়ে কর্ণফুলীতে পৌছে। ইন্দ্রপুল থেকে উক্ত বােয়াল মাছটি আরােহী ছাড়া খালের যত দূর স্থান অতিক্রম করছিল সে অংশটুকু কালে বােয়ালখালী খাল নামে খ্যাত হয়ে উঠে।

আর এদিকে কর্ণফুলী ও বােয়ালখালী খালের প্লাবিত জলে উর্বর হয়ে উঠছিল বিস্তির্ণ শষ্য-শ্যামল নব্যভূমি। কালে বৃক্ষ শ্যামল-শস্য শ্যামল ভূমি এক জনপদে পরিণত হয়।

এখানে এ নব্যভূমির নামকরণ নিয়ে দুইটি মত এখনাে মুখ পরম্পরায় কথকদের কাছে প্রচলিত রয়েছে। (১) বােয়ালখালী খাল থেকে বােয়ালখালী এলাকার সষ্টি। (২) হযরত বু আলী কালান্দরের শুভাগমনের স্মারক চিহ্ন হিসেবে কালে প্রতিষ্ঠা পায়।

তবে এরই মাঝে শুরু হয় গ্রাম বা মৌজার সৃষ্টি। যেমন চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ এবং পটিয়ার উত্তারাংশ হাবিলাস দ্বীপ। শুনা যায়, উল্লেখিত প্রথম দুইটি দ্বীপের নামকরণ হয় দুই মহান অলি আল্লাহ্ স্মারক চিহ্ন হিসেবে এবং অপর দ্বীপটির নামকরণ হয় শেরশাহের আহত একজন মুসলিম যােদ্ধার নামের স্মারক চিহ্ন হিসেবে। এছাড়া দেখতে পাই চরখিদিরপুর, চরখিজিরপুর, খিতাপচর ও ইমাম মল্লার চর। এসব গ্রামও বিশিষ্ট গুণীজনের নামের স্মারক চিহ্ন হিসেবে খ্যাত হয়ে উঠে। সাধারণত গ্রামগুলাে গড়ে উঠতাে খাল বা নদীর পাশে পাশে পারাপারের জন্য প্রতিষ্ঠা পেত খেয়াঘাট কিংবা সাঁকো বা পুল। ঠিক এরূপ পরিবেশে গড়ে উঠা একটি গ্রামের নাম হলােখিতাপচর। এ গ্রামখানি বােয়ালখালী থানা সদর থেকে তিন কিলােমিটার সােজা দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত রেল স্টেশনের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে অবস্থিত। এখানে খিতাপচরের ঐতিহ্য নিয়ে আমরা আলােচনায় সচেষ্ট হবাে।

১৯১০ খ্রীষ্টাব্দে পটিয়ার উত্তরাংশ নিয়ে পৃথক বােয়ালখালী থানা সৃষ্টি হয়। থানার দক্ষিণ পশ্চিমাংশে বােয়ালখালী খালের উত্তর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে “খিতাপচর” গ্রাম। এ বর্ধিত গ্রামখানির পূর্বে ইমামমল্লারচর, পশ্চিমে শাকপুরা এবং উত্তরে শাকপুরা জেলা পরিষদ সড়ক সংলগ্ন হােড়ারবাগ। আর দক্ষিণে তাে রয়েছে উল্লেখিত খাল। এখানে মুসলিম ও হিন্দুর বাস। তবে এদের মধ্যে। শতকরা ৮০ জন মুসলিম।

এটি দৈর্ঘ্যে পূর্ব-পশ্চিম দুই কিলােমিটার এবং প্রস্তে উত্তর-দক্ষিণ এক কিলােমিটার। এটি পূর্ব খিতাপচর এবং পশ্চিম খিতাপচর নামেও পরিচিত। পূর্ব খিতাপচরের পূর্বাংশের বুক চিরে (১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে) চলে গেছে দোহাজারী রেলওয়ে সড়ক। এখানে যে ঐতিহ্যবাহী গ্রামটির পরিচয় দিতে যাচ্ছি তার নামকরণের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রাবন্ধিক মােঃ তাজুল ইসলাম রাজু’র ভাষায় খিতাপচরের তাৎপর্য থেকে বুঝা যায়, খেতাব শব্দ থেকে খিতাব, যার আভিধানিক অর্থ সম্মানসূচক উপাধি বা খিতাবচর শব্দের অর্থ গুপ্তদূত, বিচরণশীল বা গুপ্তভাবে বিচরণ করা। তা হলে বুঝা যায় সম্মানসূচক উপাধি প্রাপ্ত ব্যক্তিদের গুপ্তভাবে বিচরণ করার নামই খিতাপচর। তিনি প্রচলিত আরও একটি মত পাঠককে জানিয়েছেন। একদিকে কড়লভেঙ্গা পাহাড় অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর। পাহাড় আর সাগরের মাঝে সম্পর্কের স্থানটির চিহ্ন এই গ্রামে পাওয়া যায় বলে একে চর’ বা খিতাপচর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা কবি আলাদ্দীন আলী নূরের লেখায় দেখি “দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে অর্থাৎ ১৩৪৫-৪৬ খ্রিস্টাব্দে পরিব্রাজক ইবনে বতুতার পরিদর্শনধন্য `বরহনক’ থেকে `আনিক্য বলীয়া খেলায় যােগ দিতে আসছে, তখন দর্শকের আগ্রহ ও উত্তেজনা বেড়ে যায়। তার আলােচনা থেকে আরাে জানা যায় যে, বৃহত্তর চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম সাতকানিয়ার মাল দেশ’ মিলয়া থেকে সর্বপ্রথম মল্ল ক্রীড়ার অনুসঙ্গী হিসেবে বলী খেলার উদ্দেশ্যে এবং পরে পটিয়ার মালিয়ারা হয়ে সমগ্র চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। হয়তাে এ জাতীয় সূত্রধরে অনেকেই মনে করেন যে, চট্টগ্রামে প্রচলিত বলিখেলার জনপ্রিয়তা সম্ভবতঃ প্রাচীন আরব প্রভাবের ফলশ্রুতি। উল্লেখ্য, এখানে বলি খেলা মানে মল্লযুদ্ধ বা কুস্তী প্রতিযােগীতাই বুঝতে হবে।

মল্লযুদ্ধে বলিখেলায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন কালের। চট্টগ্রামের মল্ল নামে খ্যাত বহু প্রাচীন পরিবার রয়েছে। চট্টগ্রামের ইতিহাস রচয়িতা পূর্ণচন্দ্র চৌধুরী ও মুনসী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের লেখা থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামে বাইশটি মল্ল পরিবার ইতিহাস প্রসিদ্ধ। এই ২২জন মল্ল বাইশটি গ্রামে বাস করতেন। তাদের মধ্যে মাত্র দুই জন মল্লের নামের স্মারক রূপে গ্রাম প্রতিষ্ঠা পায়। একটি খিতাপমল্লের নামানুসারে খিতাপচর এবং অপরটি ইমাম মল্লের নামানুসারে ইমামমল্লচর। বাকী ২০ জনের কারাে নামে কোন গ্রাম গড়ে উঠেনি। এ থেকে আমরা স্পষ্টই বুঝতে পারি যে, বহিরাগত উক্ত মল্লদ্বয় জ্ঞাণে-গুণে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন লােক ছিলেন। শুধু তা নয়, উভয়ে ধনেমানেও প্রসিদ্ধ ছিলেন। তাই সমকালে নিজ ব্যক্তিত্ব ও প্রতাপ প্রতিপত্তি দ্বারা নিজ নামে গ্রাম পত্তন করে যুগে যুগে স্মরণীয়-বরণীয় গুণীজন হিসেবে আজও অমর হয়ে আছেন। ” আরাে অনুসন্ধানে জানা যায়, খিতাবমল্ল ও ইমাম মল্ল তারা দুই ভাই। তারা নিজ নামে গ্রাম পত্তন করে তৎকালীন শাসক থেকে জায়গীর কিংবা তরপ লাভ করে নতুন বাস শুরু করেন। খিতাব মল্লের আগমন সম্পর্কে দু’টি মতঃ- (১) কক্সবাজারের ঈদগাহ্ থেকে তার আগমন। সেখানে তাঁর পূর্ব পুরুষের জমিদারী ছিল। (২) লােহাগাড়া থেকে তাঁর আগমন। যেখানে তাদের জমিদারী ছিল।

এখানে খিতাপচর তরপ তাঁর নামের স্মারক। তাঁর নামে দু’টি মসজিদ প্রতিষ্ঠা পায়। সেকালের খিতাপমল্লের মসজিদ একালের পােরান মসজিদ মসজিদ নামে পরিচিত। এ মসজিদের বহু ওয়াকফ সম্পত্তি ছিল। তার এক উত্তর পুরুষ বুজর মল্ল ওয়াকফ সম্পত্তির নাম পরিবর্তন করে নষ্ট করে ফেলে। এটি পাকা তৈরি মসজিদ। গ্রামের মল্ল পাড়ায় এ শতকের কোন এক দশকে জামে মসজিদ প্রতিষ্ঠা হয়। এটির নাম কাজী আছাদ আলী (রঃ) মল্ল পাড়া জামে মসজিদ। খিতাপ মল্ল বংশের ডােমর মল্ল, লাতুর গাজী মল্ল, মরিছন মলু, ফৈরাজী আলী মল্ল, রশিদ মল্ল, ইব্রাহীম মল্ল, ইউনুচ মল্ল প্রমুখ সমাজে বিশিষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। এখানে ডােমন মল্লের (মুহরী) সময়কাল দেখা যায় ১৭৯৬ খ্রস্টাব্দ। তাও কোম্পানী আমলের। এ গ্রামে আর একজন তালুকী জমিদারের নাম জানতে পারি। তাঁর নাম সেকান্দার (সেকান্দর পাড়া তার নামের স্মারক)। এখানে প্রতিষ্ঠিত পুরানাে মসজিদটির নাম বরকতিয়া মল্ল মসজিদ। প্রকাশ বরকতিয়া মসজিদ। এর বারকানী ওয়াকফ জমি রয়েছে। এছাড়া গ্রামে কালা গাজীর মসজিদ, বুধাগাজীর মসজিদ, হযরত এজাহার শাহ্ জামে মসজিদ ও খিতাপচর মাবুদিয়া মাদ্রসা প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

খিতাব মল্ল কিংবা তার পূর্ববর্তী বহিরাগত লােকের আগমন বসতি স্থাপন শুধু নয়, তারা ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগমন করেছিলেন। ইতিহাসের সাক্ষ্য, মুসলিম শাসকদের যারা মগদের তাড়িত করতে বীরদর্পে সাহায্য করেছেন, তাদের কেউ মল্ল, আবার কেউ গাজী উপাধি সমকালীন শাসকদের কাছ থেকে লাভ করেন। এ খিতাপচর গ্রামে বহু অলি আল্লাহর আগমন ও জন্ম। হয়। নানা অনুসন্ধানে আমাদের ধারণা হয়, মােগল আমলে হযরত আল ইউসুফ শাহ (রঃ) আলাই আরবী; হযরত হাছান ইউনানী শাহ্ (রঃ), হযরত সৈয়দ ইচুপকারী শাহ্ (রঃ), হযরত জয়ছত নবী (রঃ) আরবী প্রমুখ অলি আল্লাহ্গণ আগমন করেন। কেউ কেউ বলেন, এঁদের মধ্যে হযরত ওয়ায়েজ কাজী (রঃ) সর্বপ্রথম আগমন করেন।

এ গ্রামে হযরত গাউছুল আজম শাহসুফী মৌলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (কঃ) তাঁর মহান স্মারক চিহ্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে “আসন শরীফ।” এর পাশে শায়িত আছেন গ্রামে বিশিষ্ট প্রাচীন খােন্দকার পরিবারে সুসন্তান জনাব মৌলানা শাহসুফী হযরত আবদুল আজিজ ছাহেব (রহঃ) তিনি হলেন হযরত কেবলার বেলায়তপ্রাপ্ত।

হযরত গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী আওলাদ সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী, সৈয়দ শফিউল বশর মাইজভাণ্ডারী, শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী সহ পরবর্তি বংশধারার মহান পূণ্যবান পুরুষগণ বারবার আগমন করেন।

এ গ্রামে আরো আগমন করেন হযরত শাহসুফী মৌলানা সৈয়দ আবদু ছালাম (রঃ); হযরত শাহসুফী মৌলানা আমীরুজ্জামান শাহ (রঃ), হযরত কাজী আছদ আলী শাহ (রঃ) এবং সুন্নিয়তের সিপাহশালার আল্লামা গাজী শেরে বাংলা আজিজুল হক (কঃ)।

উল্লেখ্য হযরত কাজী আছদ আলী শাহ (রঃ) উল্লেখ্য বহু অবদান এ গ্রামের বসতিদের আজও বিরাজমান। তিনি এ গ্রামের বসতিদের খোদাভিরুতা আনয়নে প্রচুর সময় ব্যয় করেছিলেন। (যা অন্য একটি প্রবন্ধে আছে)। চল্লিশ পঞ্চাশ দশকে মৌলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ইসলাম শাহ চাটগামী হুজুর (রহঃ) প্রমুখ অলি-আল্লাহ শুভাগমন হয়েছে। এগ্রামের সন্তানদের মধ্যে হযরত শাহসুফী দুলামিঞা (রহঃ), মৌলানা নূর মুহাম্মদ (রহঃ), হযরত শাহসুফী এজাহার শাহ্ (রহঃ) মৌলানা সৈয়দ ছৈয়দুর রহমান খলিফায়ে বাবাভাণ্ডারী (কঃ), হযরত মৌলানা আবদুল মাবুদ (রঃ) খলিফায়ে শেরে বাংলা (রঃ),হযরত শাহসুফী মাজহারুল হক প্রকাশ মজু শাহ প্রমুখ ইসলামের খেদমত করে জান্নাতবাসী হয়েছেন। এখানে মজু ফকির পূর্ববর্তী আউলিয়াদের উত্তরসুরী হয়ে খােদা প্রেমে বিভাের থাকতেন। তাঁর কাছ থেকে দোয়া নেয়ার জন্য নানা স্থান থেকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মকসুদী লােকের সমাবেশ হতো।

সঙ্গীতমূখর বাংলাদেশে দেশীয় সঙ্গীত ছিল অবহেলিত। তবুও দেখছি অগনিত গণমানুষ একেবারে বঞ্চিত ছিলনা। সেকালে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দেশী ভাষায় গান বেঁধে সুর আরােপ করে বিভিন্ন রাগ-রাগিনীর সাধনা করে স্বীয় সৃষ্ট কর্মের স্বাক্ষর রেখে গেছেন তাদের মধ্যে শেখ আলাওল শাহ; আলী প্রমুখ বিশেষ ভাবে উল্লেখযােগ্য। সঙ্গীতজ্ঞগণ রাগ তালের ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করে দেশীয় সঙ্গীতের যে উন্নতি সাধন করেছেন এর জন্য তারা শত শত বছর পরেও লােক সমাজে অমর হয়ে রয়েছেন।

এসব সঙ্গীতজ্ঞগণ সাধারণত মুসলিম সুফী সম্প্রদায় ও রাগের রচয়িতা বা পন্ডিত নামে পরিচিত। এ পন্ডিত মুসলিম সঙ্গীত বিশারদরাই পেশাদার বাদ্যকরদের গান-বাজনা শিখাতাে। চট্টগ্রামে এরূপ বহু পন্ডিতের মধ্যে খিতাপচরের চাম্পা গাজী পন্ডিত এখানে স্মরণীয়।

চাম্পাগাজীঃ পটিয়ার বাহুলী গ্রামবাসী আঠার শতকের কবি কাজী বদিউদ্দীন তাঁর রচিত কাব্য “চিপতে ইমান”এ শিক্ষাগুরুর পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেছেন-

“আর গুরু চাম্পা গাজী নয়নের জ্যোতি,

খেতাপচর শুভ গ্রাম তাহান বসতি।

বাঙ্গালা অভ্যাস মাের সেই গুরু হতে,

মোকে পাঠ লিখি চিনাইছে নিজ হাতে ॥”

শিষ্যের লেখা প্রমাণ করে গুরু চাম্পা গাজী খিতাপচর গ্রামে আঠার শতকের শুরুতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম “আবদুল কাদের সুত চাম্পাগাজী।” আমরা আগেই আলোচনা করেছি খিতাপ মন্ত্রের উত্তর পুরুষদের কেউ নামের পরে মন্ত্র, আবার কেউ নামের পরে গাজী উপাধি ব্যবহার করে আসছেন। এ থেকে আমাদের ধারণা হয় যে, পদকার কবি চাম্পাগাজী খিতাপ মল্লের উত্তরপুরুষ। তিনি (১) সৃষ্টি পতন (২) রাগ-তাল নামা পুঁথি রচয়িতা ও পদাকার কবি ছিলেন। গবেষক আবদুল হক চৌধুরী লিখেছেন, “চাম্পাগাজী বােয়ালখালী থানার খিতাপচর ও সতর পটুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ তথ্যের ব্যাখা দিয়ে ডঃ আহমদ শরীফ লিখেছেন চাম্পাগাজীর “নিবাস ছিল চট্টগ্রামের সতর পটুয়া গাঁয়ে”; কেননা সতর পটুয়া ও খিতাপচর পাশা পাশি গ্রাম। তখন হয়তাে এক নামেই উভয় গ্রাম পরিচিত ছিল।” উপরােক্ত তথ্যালােচনায় আমাদের স্পষ্ট ধারণা জমায় যে, হয়তাে কবির সময় দুইটি গ্রামই খিতাপচর নামে পরিচিত ছিল। অথবা শেষ বয়সে চাম্পাগাজী কিংবা তাঁর উত্তর পুরুষদের কেউ সতর পটুয়া গ্রামে হিজরতপূর্বক বসতি এবং চাম্পা গাজী বংশীয় পরিচয় ফুটে উঠে। তাঁর রচনার নমুনাঃ

“এক গৃহের দশ দুয়ার ধরিয়াছে মুখে,

শ্রী মুখের ধ্যান কহিলাম সুখে।

শাহ্ সুলতান পদে মানি চাম্পাগাজী কহে,

লাহুতের ঢেউ পড়ে মানিক্য পলায় ॥”

তার একটি প্রসিদ্ধ গানের শুরু ঃ

“যদি আসে প্রাণ প্রিয়া,

হিরার উপর থুইয়া,

এই রূপ যৌবন দিমু ঢালি ॥”

কবি চাম্পাগাজী সঙ্গীতজ্ঞ প্রসিদ্ধ সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে উভয় বাংলায় স্বীকৃত।

পুঁথি সাহিত্য ঃ চট্টগ্রামের অন্যান্যস্থানের ন্যায় এ গ্রামে পুঁথি সাহিত্য চর্চা ছিল। জমিদার কিংবা ধনী-মানী পরিবার বিশেষ করে নানা পর্ব উপলক্ষে পুঁথি পাঠের আসর দেয়া গৌরববােধ করতেন। এছাড়া সাহিত্য রসিক অবস্থা সম্পন্ন লােকেরাও এ ব্যবস্থা নিতেন। অনুরূপ দুইজন লােকের সন্ধান মেলে এ খিতাপচর গ্রামে ও তৎপার্শ্বে । আমরা এ সংবাদ পাই সাহিত্য বিশারদ সাহেবের লেখা থেকে : “কবি আলাউল বিরচিত পদ্মাবতী (১৬৫১ খৃঃ) কাব্যের একটি প্রাচীন অনুলিপির পুস্তিকায় এরূপ

“এ পুস্তক মালিক শ্রী ডােমর মহুরী (ডােমন মলু) সাং খিতাপচর। বকলম মিঃ হিন শ্রী কোনখা সাং হুলাইন, আমলে শ্রীযুত মেস্তর (মিষ্টার) ভান সিংসাহেব । মােতালােকে সরকার ইসলামাবাদ চাকলে চক্রশালা কমিসীনরী আদলত কাচারী শ্রীযুক্ত মুলুমী স্যাবদ্দিন। ইপতিজাত্র—-সন ১১৫৬ ঘং ইতিসন ১১৫৮ মং তারিখ ১৬ অগ্রান। এখানে ১১৫৮ মঘি অর্থাৎ ১৭৯৬ খৃষ্টাব্দ। মৌলভী সিহাবদ্দিন হলেন পটিয়ার বরিকারা গ্রামে চির শায়িত হযরত শাহসুফী সৈয়দ কুতুব উদ্দীন (রঃ) এর পৌত্র। সৈয়দ শিহাব উদ্দিন (রঃ) ছিলেন একাধারে লেখক, আলেমে দ্বীন, আধ্যাত্মিক পুরুষ, সরকারী নিয়ােগপ্রাপ্ত মুফতি ও কাজী। তাঁর পূর্ব ও উত্তর পুরুষদের অনেকেই বড় বড় কাতেব ছিলেন।

 ” এ খিতাপচর গ্রামের পার্শ্ব গ্রাম পূর্ব শাকপুরা গ্রাম। এ গ্রামে বাস করতেন আর এক সাহিত্যামােদী জমিদার। মােহাম্মদ খান বিরচিত মজোল হােসেন (১৬৪৮ খৃঃ) কাব্যের একটি প্রাচীন অনুলিপির পুস্তিকা “লেখীতং শ্রী মাং লুধি মুন্সী পীং দুল্লব চৌধুরী” লেখা আছে। এটির লিপিকাল প্রায় দুইশত বছরের প্রাচীন। উল্লেখ্য, দুল্লবের তরফ ও আঁআল (রাস্তা)। সরকারী রেকর্ড পত্রে রয়েছে।

এ গ্রামে আর একজন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও লেখক হলেন রজনী কান্ত কাব্যতীর্থ। তিনি চট্টগ্রাম সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। তার লেখা একটি বইয়ের নাম হলাে “চট্টল বিলাপ।”

গ্রামের বুধাগাজীর বাড়ীস্থ ওয়াহেদ আলী পুঁথির বড় পন্ডিত ছিলেন। তাঁর পুঁথি পাঠের আসরে শত শত লােক রাত জেগে পুঁথির পাঠ ও রস কাহিনী শুনে রােমান্সবােধ করতেন। তিনি এ শতকের প্রথমার্ধে পরলােক গমন করেন।

পুঁথি সাহিত্যের অনেক আগে থেকে লােক সাহিত্যের চর্চা শুরু হয়। যারা তােক সমাজের মনােরঞ্জন ও সাহিত্য রসে সিঞ্চিত থাকতে চাইতেন, তারা লােক সঙ্গীত রচনা করে সুর আরােপ করে গেয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তাদের মধ্যে মােবারক আলী গানে বিখ্যাত ছিলেন। তিনি ঊনিশ শতকের ৪০-৫০ দশকে জীবিত ছিলেন। তিনি শেষ বয়সে ফকির হয়ে। গােলাম কিবরিয়া নামে পরিচিত হন।

গ্রামে আরাে অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। যদিও এ গ্রামের লােক শিল্পপতি বা কোটি পতি নন, কিন্তু তারা ধর্মীয়, সাহিত্য ও সামাজিক মর্যাদায় গৌরববােধের দাবী রাখে। একটি গ্রামে এত আউলিয়ায়ে কেরাম, ওলামায়ে কেরাম, সাহিত্যিক, জমিদারের সমাবেশ যে, থেকে মনে হয় খিতাপচর পরম স্রষ্টার এক শান্তি নিকেতন।

এভাবে ঐতিহ্যের স্মারক হয়ে আসা খিতাপচর এলাকায় – প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় উপসনালয় (মসজিদ, অলি-আউলিয়া,মন্দির), শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা,প্রাথমিক বিদ্যালয়), সামাজিক সেবামুলক সংগঠনগুলাের নামমাত্র পরিচিতি উল্লেখ করা হল-

ধর্মীয় উপসনালয় (মসজিদ)

খিতাপচর পুরান মসজিদ, স্থাপিত-১৯২০ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- আমিনুল্লা ফকির।

কাজী আছাদিয়া মল্লাপাড়া জামে মসজিদ,স্থাপিত-১৯২০ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- গরী হােসেন মােল্লা।

বরকতিয়া জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৩২ (আনুমানিক) ইংরেজী, প্রতিষ্ঠাতা- বরকত আলী মােল্লা।

হাচনা পাড়া এবাদাতখানা, স্থাপিত-১৯৫০ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-(অজ্ঞাত)।

মনছুর আলী জামে মসজিদ (ঘােষখীল মধ্যম শাকপুরা),স্থাপিত-১৯৫৯ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-মনছুর আলী।

কালা গাজী জামে মসজিদ,স্থাপিত-১৯৭২ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- কালা গাজী।

 হাজী বােরহানুর উদ্দীন জামে মসজিদ,স্থাপিত- (অজ্ঞাত), প্রতিষ্ঠাতা- হাজী বােরহানুর উদ্দীন।

মসজিদে গাউসিয়া, স্থাপিত (অজ্ঞাত), প্রতিষ্ঠাতা-মওলানা আবদুল মাবুদ শাহ।

আদুখা জামে মসজিদ, স্থাপিত-(অজ্ঞাত), প্রতিষ্ঠাতা-আদু খান।

করম আলী সারাং জামে মসজিদ (ঘােষখীল),স্থাপিত ১৯৮১ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- করম আলী।

হযরত নুরুল হক শাহ্ এবাদাতখানা (হাচনা পাড়া সংলগ্ন),স্থাপিত-১৯৯২ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-মাজার কমিটি। হামিদিয়া জামে মসজিদ (মধ্যম ঘােষখীল), স্থাপিত-১৯৯৩ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-হামিদুর রহমান।

এজাহার শাহ জামে মসজিদ, স্থাপিত-১৯৯৫ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-আজিজুল হক।

মজুভাণ্ডার জামে মসজিদ, স্থাপিত-১৯৯৫ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- নুরুল ইসলাম (পাখি)।

অলি – আউলিয়া

খলিফায়ে মাইজভাণ্ডারী হযরত মাওলানা সৈয়দ আবদুল আজিজ শাহ আল মাইজভাণ্ডারী (ক.), ওফাত-২৬ পৌষ, ৯ জানুয়ারী।

হযরত সৈয়দ ইউছুপ আহমদ সাহেব আল মাইজভাণ্ডারী(ক.),ওফাত-৪ আশ্বিন।

হযরত ইউছুপ শাহ্ আল আরবী (র.) ওরশ-পহেলা ফাল্গুন।

হযরত ইউছুপনবী, হযরত ফয়ছতনবী (র.)(সেকান্দার পাড়া), ওরশ- ২১ মাঘ।

হযরত আছি শাহ আল আমিরভাণ্ডারী (র.) (সেকান্দারপাড়া),ওফাত-২৯ অগ্রহায়ণ।

হযরত হাচান শাহ ইউনানী(র.),ওরশ -২০ ফাল্গুন।

হযরত মৌলানা আবদুল মাবুদ আলকাদেরী(র.), জন্ম১৯২৪ ইংরেজি, ওফাত-২৩ সফর ১৪০৮, ১৬ অক্টোবর ১৯৮৭ ইংরেজি।

হযরত মাওলানা সৈয়দ ছৈয়দুর রহমান আল মাইজভাণ্ডারী (ক.), জন্ম-১৯০২, ওফাত-৯ আগস্ট,      ২৫ শ্রাবণ।

হযরত এজহার শাহ(র.), জন্ম-৫ বৈশাখ, ওফাত-৩রা আষাঢ়।

হযরত নূরবক্স শাহ(র.) (হাচনাপাড়া), ওরশ-১০ চৈত্র।

হযরত মৌলানা আবদুল হক মাস্টার আল মাইজভাণ্ডারী(র.), ওফাত দিবস-১৩ চৈত্র।

হযরত মােজেহেরুল হক শাহ আল আমির ভাণ্ডারী (ম.) (প্রকাশ মজু ফকির) জন্ম-১ জানুয়ারী, ওফাত-২২জুলাই

মন্দির

মাতৃ মন্দির, স্থাপিত-১৯৩০ ইংরেজি। পশ্চিম খিতাপচর পল্লী উন্নয়ন সমিতি (সেনপাড়া), প্রতিষ্ঠাতা-পল্লী উন্নয়ন সমিতি।

শ্রী শ্রী লােকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রম, পশ্চিম খিতাপচর সেনাপাড়া, স্থাপিত-১৪০৭বাংলা, প্রতিষ্ঠাতা-পল্লী উন্নয়ন সমিতি।

নবারুন সংঘ দুর্গা মন্দির (পর্ব খিতাপচর), স্থাপিত১৯৭২ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-অজ্ঞাত।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মাদ্রাসা

খিতাপচর আজিজিয়া মাবুদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা (হেফজখানা এতিমখানা) স্থাপিত- অজ্ঞাত, প্রতিষ্ঠাতা হযরত মৌলানা আবদুল মাবুদ শাহ্ আলকাদেরী।

হযরত ইউছুপ শাহ ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, স্থাপিত১৯৮৫ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-জাফর আহমদ।

খিতাপচর রহমানিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা (মুসাফিরখানা, বয়স্ক কোরাআন শিক্ষা কেন্দ্র), স্থাপিত-১৯৯৫ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- শাহজাদা সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

মাদ্রাসা-এ- শাহানশাহ সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী স্থাপিত-২৬ মার্চ ২০১০ প্রতিষ্ঠাতা – মোত্তাকীয়ে মাইজভাণ্ডারী ছৈয়দুর রহমান মাঝি পরিবার।

প্রাথমিক বিদ্যালয়

খিতাপচর ইসলামিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯১৫ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- হামিদুর রহমান মাস্টার

পূর্ব খিতাপচর রসিক চন্দ্র সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯৬২ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-রসিক চন্দ্র বিশ্বাস।

ঘােষখীল আহমদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত-১৯৭৪ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- জামাল উদ্দিন আহমদ।

সামাজিক সেবামূলক সংগঠন

আঞ্জুমানে আছাদিয়া নূরীয়া সেহাবিয়া (খিতাপচর শাখা), স্থাপিত-১৯৮২ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-শহিদুল্লাহ ও হামিদুল্লাহ খান, সাইদুর রহমান খােকা, জামাল উদ্দীন।

খিতাপচর ক্রিকেট একাদশ (বড়মিয়া বাড়ী), স্থাপিত-১৯৮৫ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-অজ্ঞাত।

হকভাণ্ডারী স্মরণ সভা সংসদ, স্থাপিত-১৯৮৮ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- আজিজুল হক, আবুল কালাম, নুরুল ইসলাম, আবুল কাসেম।

খিতাপচর সততা ক্লাব, স্থাপিত-১৯৯০ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা জালাল উদ্দীন।

আঞ্জুমানে মােত্তাবেয়ীনে গাউসে মাইজভাণ্ডারী (খিতাপচর আঞ্চলিক শাখা), আবেদনের তারিখ-১৭-২-৯৯ বাংলা, ১০-৬-১৯৯২ইংরেজি, আঞ্চলিক শাখা অনুমােদন তারিখ- ২৩/৭/১৯৯২ ইংরেজি, দায়রা শাখা অনুমােদন তারিখ-২৯/৮/১৯৯৬ ইংরেজি, দায়রা শাখা ক্রম নং-২৭, প্রতিষ্ঠাতা-অছিয়ে গাউসুল আজম শাহসুফি হযরত মাওলানা সৈয়দ দেলাওর হােসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.)।

সূর্য তরুণ ক্রিকেট একাদশ, স্থাপিত-১৯৯৭ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-মামুন উদ্দীন ও আজিম উদ্দীন।

হকভাণ্ডারী গণ পাঠাগার, স্থাপিত-১৯৯৭ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা- মো.তাজুল ইসলাম রাজু।

আঞ্জুমানে আছাদিয়া নূরীয়া জয়নাল মিয়া (খিতাপচর শাখা), স্থাপিত-১৯৯৭ ইংরেজি প্রতিষ্ঠাতা-শাহাজাদা সৈয়দ জয়নাল আবেদীন।

আঞ্জুমানে আছাদিয়া মােছলেম মিয়া (খিতাপচরশাখা), স্থাপিত-১৯৯৮ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-মফিজুর রহমান, আহমেদ মিয়া।

জমিয়তে রহমানিয়া মাইজভাণ্ডারীয়া (খিতাপচর শাখা), স্থাপিত-১৯৯৮ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-শাহজাদা সৈয়দ শফিউল বসর মাইজভাণ্ডারী (ম.)।

খিতাপচর পােস্ট অফিস (শাকপুরাঃ কোডনং ৪৩৬৭)।

সমাজ কল্যাণ পরিষদ (খিতাপচর বুদা গাজী পাড়া),স্থাপিত-১৯৯৮ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-অজ্ঞাত।

আর ডি ও রুরাল ডেভলপমেন্ট অর্গানিজেশন, স্থাপিত-১৯৯৯ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-মো. মহিব উল্লাহ খান।

নগর বাউল স্পাের্টিং ক্লাব (খিতাপচর বুদাগাজী পাড়া), স্থাপিত-১৯৯৯ইংরেজি। প্রতিষ্ঠাতা-অজ্ঞাত।

খিতাপচর ইয়ং স্টার,স্থাপিত-২০০০ ইংরেজি,প্রতিষ্ঠাতা-মােঃ মেজবাহুল আলম, মিনহাজুল আবেদীন (মাছুম)।

খিতাপচর ফুটবল একাদশ, স্থাপিত-২০০০ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-হারুন উর রশিদ (বাবলু)।

খিতাপচর সাথী ক্লাব,স্থাপিত-২০০০ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-মোঃ দিদারুল আলম (পান্না)।

যুব উন্নয়ন স্পাের্টিং ক্লাব (বুদা গাজী পাড়া), স্থাপিত-২০০০ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-অজ্ঞাত।

খিতাপচর মিলিয়াম ক্লাব, স্থাপিত-২০০০ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-জামাল উদ্দীন (সৈকত)।

কমান্ডার খলিলুর রহমান স্মৃতি সংসদ, স্থাপিত-২০০০ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-মছিবুর রহমান (বাবুল)।

এম সৈকত ফুটবল একাদশ, স্থাপিত-২০০০ ইংরেজি, প্রতিষ্ঠাতা-এম সােহেল রানা (ইমন)।

মানবতায় বোয়ালখালী ফাউন্ডেশন, স্থাপিত- ২৫ নভেম্বর ২০১৬ ইংরেজি। উদ্যেক্তা- মো. ইরফান হোসেন ইমন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য- মো. গিয়াস উদ্দিন বাবলু, মো. গিয়াস উদ্দিন মানিক, মো. এনামুল হক সজিব, মোরশেদ আলম, মো. সাহাদাত হোসেন ফরহাদ, মো. শওকত হোসেন, মো. এরশাদ আলম, মো. সাফায়েত উল্লাহ খান জনি, মো. আবদুল মালেক বাবু, মো. জাবেদ হোসেন রিসান, মো. ছালেকুর রহমান নিহাল।

লেখক : মুহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী, পুঁথি গবেষক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ।

সূত্র- মাসিক আলোকধারা- ১৯৯৯ইং, হকভাণ্ডারী গণ পাঠাগারের প্রকাশনা উদিত ২০০১ইং,                মাসিক আলোাকিত বোয়ালখালী জানুয়ারী ২০০২ইং।

সহযোগিতায়- মোস্তফা কামাল কালু, নজরুল ইসলাম।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here