আলোকিত সংলাপ : আল-মাহমুদ 

সম্প্রতি কয়েক মাসের ব্যবধানে কয়েকজন কিশোর খুন হওয়ার বিষয়টি জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

৭ জুলাই গাজীপুরের টঙ্গীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে নবম শ্রেণির ছাত্র শুভ আহমেদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মৃদুল হাসান পাপ্পুসহ কিশোর গ্যাং গ্রুপের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আটককৃতদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর সব কিশোর গ্যাংয়ের তথ্য- ডিসকো ভয়েস, নিউ নাইন স্টার, নিউ আইকন, ডেঞ্জার বয়েস ইত্যাদি। এসব কিশোর গ্রুপ গড়ে ওঠার কারণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি।

কিশোর অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পেছনে পরিবারের দায়িত্বহীনতার দায় সবচেয়ে বেশি। পিতা-মাতার তদারকির অভাবে সন্তান অবাধ্য হয়ে এসব অপরাধে সম্পৃক্ত হচ্ছে।

কিশোরদের প্রতি পরিবারের অনুশাসনের অভাব এ সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলছে। তবে পারিবারিক বন্ধনে শিথিলতাও কিশোর অপরাধের জন্য যথেষ্ট দায়ী।

আজকাল পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে স্নেহ ও সম্মানের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে; যার ফলে পারিবারিক দ্বন্দ্ব দেখে কিশোর-কিশোরীরা অপরাধে জড়াতে পিছপা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সন্তানের ইচ্ছা পূরণে পরিবার অবাধে টাকা-পয়সা দিয়ে থাকে কোনো ধরনের হিসাব-কিতাব ছাড়াই, যা তাকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে সম্পৃক্ত হতে সাহায্য করে।

এখন কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পদার্পণ করার মনমানসিকতা নেই বললেই চলে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে তারা এখন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মনোসংযোগের অভাব অনেক সময় তাদের অপকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। একই সঙ্গে মা-বাবার কাছ থেকে সন্তানের পর্যাপ্ত সময় না পাওয়াটাও উদ্বেগের বিষয়।

বস্তুত অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণহীনতা, ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের অবাধ সুবিধা ইত্যাদি কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

অনেক মা-বাবা আছেন; তারা তাদের সন্তান কী করছে, কার সঙ্গে মিশছে, ইন্টারনেটে কী দেখছে, সে সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন না।

তাদের সন্তানদেরই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কেন কিশোর গ্যাং সৃষ্টি হচ্ছে এবং কেন কিশোরদের মধ্যে ড্রাগ আসক্তি, খুন-ধর্ষণের মতো হিংস্র ও বিকৃত অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে, তার কারণ উদঘাটন করা জরুরি। এজন্য দরকার অনেক বড় পরিসরে গবেষণা।

গবেষণা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যথাযথ সরকারিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরা যদি এগিয়ে আসেন এবং তাদের নিজ নিজ এলাকায় কিশোর গ্যাং অপরাধ বন্ধে উদ্যোগী হয়ে কিশোরদের কল্যাণকর কাজে উদ্বুদ্ধ করেন, তাহলে এ সমস্যার সমাধান খুব সহজে হবে।

যদি তুমি কিশোর গ্যাং এর হয়ে থাকো তাহলে বাস্তবতার চ্যালেঞ্জে আসতে পারো

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here