সৈয়দ মৌলানা মুফতি সাজেদ উল্লাহ আজিজী

পৃথিবীতে এত বড় বড় চিকিৎসা বিজ্ঞানী থাকা স্বত্তেও কেউ ‘করোনা’ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগাম বার্তা দিতে পারল না। এমন কি ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার ছয় মাস কিংবা বছর আগেও কোন প্রকার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হলো না।

নাসার বিজ্ঞানীরা বছরের বিভিন্ন সময়ে অনেক কিছুর পূর্বাভাস দিয়ে থাকেন।কিন্তু করোনার কোন বিষয়ে এরা মানুষের পূর্ব প্রস্তুতি নেওয়ার মতো কোন তথ্যই দিতে পারলো না।

পৃথিবীর সকল চিকিৎসা বিজ্ঞানী,সৌর বিজ্ঞানী, এমনকি ভাইরাস গবেষণা কর্মে নিয়োজিত পৃথিবীর কোন বিজ্ঞানীই এই ভয়াবহ অবস্থার ক্ষতিকারক দিক সমূহ সম্পর্কে সেই ভাইরাস আবির্ভূত হওয়ার পর্যাপ্ত সময়ের পূর্বে পৃথিবীর মানুষকে সতর্কত করার কোন কিছুই বলতে পারল না।

অথচ এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল মহামারি শুরু হওয়ার মাঝ পথে এসে সুনির্দিষ্ট ভাবে সতের শত বিশ সালের, আঠার শত বিশ সালের, ঊনিশ শত বিশ সালের মহাপ্রলয়ন্কারী মহামারির দুঃসংবাদ জানিয়ে সতর্ক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এবং তারা একথাও বলতে শুরু করলেন,দুই হাজার বিশ সালের এই মহামারি নতুন কিছু নয়,বরং প্রতি শত বছরের মাথায় এ রকম দুর্যোগপূর্ণ মহামারী পৃথিবীতে আঘাত হেনে লক্ষ কোটি মানুষের প্রাণ বিনাশ করেছে।

কিন্তু দুঃখ একটি জায়গায়,আর তা হলো যাত্রী ভর্তি ডিংগী নৌকা যখন সমুদ্রের মাঝ পথে কেবল তখনই সতর্ক বার্তা। কেমন একটা হাস্যকর বিষয় না?

এর আগে যেন সব বুদ্ধিজীবী আর তথাকথিত বিদ্যানদের আকাশচুম্বী বিদ্যার বাহার যেন বস্তাবন্দি ছিল।
যখন হাজারে হাজার , লাখে লাখ মানুষ ‘করোনার’ করুন থাবায় আর বিষধর ছোবলে প্রাণ হারিয়ে মৃত্যুর মিছিলে শামিল হতে শুরু করলো, কেবল তখনই কেউ কেউ আশার আলো দেখাতে সচেষ্ট, আবার কেউ মাত্রাতিরিক্ত ভয় দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।

এখন আসতে থাকলো সতর্কবাণীর উপর আরো সতর্কতাবাণী।কিন্তু এগুলোতে কাজের কাজ কিছুই হলো কি?

‘সোশাল ডিস্টেন্সিং’ আর ‘লক্ ডাউন’ এর মতো আরো কত নতুন শব্দের সাথে আমরা পরিচিত হলাম।

অন্য দিকে বর্তমানের নব্য ও স্বঘোষিত ‘হাজত রওয়া’ আর ‘মুশকিল কোশা’,হাল জামানার গউসুল আজম,গউসে সামদানী আর কুতুবে রব্বানীরাও কাণ্ডারীর হাল ছেড়ে দিয়ে চুপসে বসে আছেন।তাদের অনেকের দাবি মতে যারা আল্লাহর সাথে সরাসরি মোরাকাবায় বসে আল্লাহর দিদারে মিলিত হয়ে এলহামের মাধ্যমে আল্লাহর গোপন ভেদ আর ইলমে গায়বের অধিকারী হন তারাও পৃথিবীবাসীর এত বড় মহাবিপদের কোন আগাম বার্তা দিতে ব্যর্থ হয়ে পড়লেন। তারা না মহামারীর আগে কিছু ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হলেন,না মহামারী পরবর্তী অবস্থা সমূহের কোন বর্ণনাও তুলে ধরতে পারলেন।
অথচ ঐ ভন্ড চক্রের পা চাঁটা হায়না মৌ-লোভীরা সদা সর্বদা তথাকথিত সেই ভন্ড পীরদের প্রশংসায় বুননকৃত রসালো আর মন মাতানো কেরামত কিংবা মনগড়া গল্প কাহিনী শুনিয়ে সরলমনা ও তরীকত পন্থী সত্যিকারের সুন্নী মুসলিমদের ঈমান, আকীদা, আমল আখলাকের সব কিছুই কেড়ে নিচ্ছে।

কিন্তু আর না! বর্তমানের ‘করোনা’ মহামারি অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতার চোখের পর্দা সরিয়ে দিয়েছে।
এখন মানুষ হারে হারে টের পাচ্ছে যে,গউসে আজম কুতুবে আলম নাম ব্যবহার করা যত সহজ, সত্যিকারের গউসুল আজম কিংবা হাজত রওয়া, মুশকিল কোশা হওয়া তত সহজ সাধ্য নয়। বরং এই মহা মূল্যবান লক্ববগুলো খাদক আর চাটুকার বাহিনীর জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না।এমনকি তথাকথিত সেই ভন্ডরা মুরীদের দুঃখ দুর্দশায় লাগা তো দূরে, তারা যেন করোনার ভয়ে নিজের জীবন বাঁচানোর তাগিদে আবদ্ধ কুঠুরিতে আশ্রয় নিয়ে আত্ন গোপনে থেকে স্বেচ্ছায় কারাদণ্ড ভোগ করছে।

মুরীদেরা মরুক আর বাঁচুক তথাকথিত ঐ পীরে কামেল আর মুরশেদে বরহকদের যেন কিছু যায় আসছে না।
এমন কি মুরীদ ‘করোনা’ কালে দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রাক্ষালেও পীরের দেখা মিলছে না,জানাযার জন্যও না।
অথচ অনেক মুরীদ স্বীয় পীরের জন্য ‘ফানা ফিশ্ শায়খ’ হতে গিয়ে বৃদ্ধ বাবা মাকে খেদমত তো দূরে এমন কি ফিরেও দেখেনা বলে শত শত প্রমানাদি বিদ্যমান।

পক্ষান্তরে বেচারা মুরীদ নিজ পীরের হাদিয়া, নাজরানা, উপটৌকন আর পীরের কাছে হাজিরা দেওয়া নিয়মিতভাবে সবকিছু চালিয়ে গেছে।তার কোন কিছুতে কমতি বা আপোস করেনি।
কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, নিদানকালের অন্তিম অবস্থায় সেই ‘মুশকিল কোশা’ কিংবা তার কোন চাটুকারের দল মৃত মুরীদ আর পরপারের যাত্রীর ধারে কাছেও নেই।কারণ হলো ‘করোনার’ ভয়।পীরই যদি বেঁচে না থাকে তাহলে মুরীদের উপটৌকন আর হাদিয়া নজরানার কি অবস্থা হবে?

এখন আর সেই বায়তুনী কেরামতির কোন কিছুই কাজ দিচ্ছে না।আল্লাহর কাছে তাদের দোয়া প্রার্থনার কিছুই ক্ববুল হচ্ছে না। এদের অনেকেই ভেজাল হারাম খাদ্যের সয়লাবে ভেসে চলেছে।মুরীদের উপটৌকন আর সূদ ঘুষের ভেদবিচারহীন আমদানিতে ক্বলব এক প্রকার নষ্ট হয়ে গেছে বললেই চলে।
তবে দেশের একটি নাম করা ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় গউসুল আজম মাইজ ভান্ডারী দরবার শরীফের পীর আউলিয়াদের বর্তমান প্রজন্মের করোনা সংকট কালীন দুস্থ মানুষের প্রতি মানবিক খেদমতের হাত সম্প্রসারিত করা সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে।

এছাড়া মৃত ব্যক্তির করোনা ছিল কি না তার তোয়াক্কা না করে কবর খনন, কাফন, দাফন ও জানাজা নিয়ে যে সংকটাপন্ন উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন একটি বিশ্ব নন্দিত আহলে তরীকত সিরিকোটি দরবার শরীফের রূহানী সন্তানেরা । যাদের পীরের নির্দেশে মুরীদেরা করোনাকে ভয় তো নয়ই বরং নিজেদের জীবন ও পরিবার পরিজনের মায়া ত্যাগ করে জীবন বাজি রেখে রাত দিন করোনা রোগীর চিকিৎসা সেবা আর মানবিক সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।এ ধরণের সূফী সাধকদের প্রতি হাজারো সালাম, অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর ভালবাসা।

এবার প্রসংগের উপর আসল কথায় আসা যাক, ডাক্তার,চিকিৎসা বিজ্ঞানী,পরমাণু বিজ্ঞানী,সৌর বিজ্ঞানী জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পুরোহিত, সাধূ সন্যাসী আর বহুরূপী ভন্ড পীর দরবেশদের কারো হাতেই কোন ক্ষমতা নেই।বাঁচানোর মালিক এক মাত্র একজন।
তাহলে কে তিনি?

নিশ্চয় তিনি এমন কোন মহাপরাক্রমশালী স্বত্তা। যিনি ছাড়া ভবিষ্যতের কোন বিষয়ের সঠিক ধারণা বা সঠিক জ্ঞান আর কারো কাছে নেই।

আজকের পৃথিবীর বর্তমান সময়কালের নিরীখেও এটাই প্রমাণিত হয়,আমরা এমন একটি সময় বা এমন একটি দিনের জন্য অপেক্ষমান রয়েছি যে দিন টি কখন আসবে? বা ভবিষ্যতের কোন্ সালের কোন্ মাসের কোন্ তারিখে উপস্থিত হবে তাতে আমাদের কোন জ্যোতির্বিজ্ঞানী, কিংবা কোন মহাকাশের গবেষক বিন্দুমাত্রই জ্ঞান রাখে না।

এতে আরো একটি বিষয় প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবীতে মানুষ অতি সামান্য এবং অতি ক্ষুদ্র জ্ঞান নিয়ে তবুও দাম্ভিকতার সূরে গর্ব করে থাকে।

তাই স্বীকার করতেই হবে, এমন এক জন মহা কারিগর সবার উপরে অবস্থান করছেন যার জ্ঞান, শক্তি, ক্ষমতা সাহস, বিচক্ষণতা, বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদির নিরিখে যিনি একক, অদ্বিতীয় অতুলনীয়, অসাধারণ এবং অপ্রতিরোধ্য।

আর সেই মহাপরাক্রমশালী ক্ষমতার উৎসমূল হলো এমন একটি স্বত্তা যিনি চিরন্তন, চিরঞ্জীব, অখন্ডনীয় এবং যাবতীয় অভাব থেকে মুক্ত। সৃষ্টির শুরু থেকে সৃষ্টির শেষ পর্যন্ত আদি-অন্ত সব কিছুই যার কুদরতি নখদর্পণে।

এই মহা জাগতিক বিশ্বে যার কোন সমকক্ষ, সহকর্মী কিংবা পুর্বজন্ম বা প্রজন্ম বলতে কিছুর অস্তিত্বও নেই।

ছিলেন শুধু তিনি, আছেন শুধু তিনি,আর থাকবেনই শুধু তিনি।

তা হলে তিনি কে ?
তিনি সেই একক ক্ষমতাধর স্বত্তা যার হুকুমে রাত শেষে দিবালোকের সূর্য পূর্বাকাশে দৃশ্যমান হয়, আবার পরন্ত বিকেলে পশ্চিম আকাশে অস্তমিত হয়। যার ইশারায় অন্ধকার রজনীতে চাঁদ পৃথিবীকে আলোকময় করে তোলে। যার আদেশে সূর্য বৃহত্তর সৌর জগতকে উত্তাপ ছড়ায় আর চমৎকার আলোতে উদ্ভাসিত করে তোলে।

যার অপরূপ কুদরতে সমুদ্রের পানিতে জোয়ার আর ভাটার সৃষ্টি হয়, যিনি আছেন বলেই আমরা আছি। এই মহাজাগতিক বিশ্বের সব কিছুই চলমান আর বেগবান রয়েছে তাঁরই কারণে । তিনি আমাদের পরীক্ষা নিতে গিয়ে রোগ বালাই দিয়ে থাকেন,আবার তিনিই আমাদের সেফা দান করেন। আল্লাহর ঘোষণা পবিত্র কোরআনের মাধ্যমেঃ واذا مرضت فهو يشفين
উচ্চারণ:- “ওয়া ইযা মরিদ্বতু ফাহুয়া ইয়াশফীন্ ”
অর্থাৎ যখন আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন তিনি (আল্লাহ্) আমাকে সেফা দান করেন।

তিনিই আমাদের জীবন দিয়েছেন, একদিন সকলে আবার মৃত্যুর স্বাদ অবগাহন করে তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করবো।
আল্লাহ্ বলেছেন- يحيى و يميت
উচ্চারণ:- ‘ইউহ্য়ী ওয়া ইউমীতু’
অর্থাৎ তিনি জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু মুখে পতিত করেন।’

এ জীবন আর মৃত্যু একমাত্র তাঁরই হাতে। আমাদের সুখ, দুঃখ, বিরহ আর বেদনার সব কিছুই এক মাত্র তাঁকে ঘিরে। তিনিই মহীয়ান, তিনিই সৃষ্টি জগতের ভালবাসার বিমূর্ত প্রতীক। শুরুতেও তিনি, সব কিছুর শেষেও তিনি। তার মধ্যবর্তী কিছু সময়কালের জন্য আমরা অস্তিত্ব সম্পন্ন আর দৃশ্যমান।

তার একটি মাত্র নির্দেশে মহা বিশ্বের সব কিছু একদিন বিলীন হতে বাধ্য।

তিনি হলেন সকলের স্রষ্টা,আর আমাদের রব আমাদের মা’বুদ সর্বশক্তিমান আল্লাহ্, সব সৃষ্টিকুল যার মালিকানাধীন।

তিনিই হলেন “ক্বুল হুয়াল্লাহু আহাদ্,আল্লাহু স্সামাদ, লাম্ ইয়ালিদ্ ওয়া লাম্ ইউলাদ্, ওয়ালাম্ ইয়াল্লাহু কুফওয়ান আহাদ্”।

আরো একটি কথা না বললে নয়, সারা পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষই আজ বিপথগামী। কি মুসলিম আর কি অমুসলিম প্রায় সকলেরই একই দশা। জুলুম, নির্যাতন, রক্তারক্তি, বেহায়াপনা, মদ্যপান, নারী শরীরের নগ্নতা উপভোগ, ব্যভিচার, বলৎকার, ধর্শন ইত্যাদি রকমের সব পাপাচার বর্তমান বিশ্বের সব ধর্মের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে ভাবে সব মানুষের নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

এমন কি মুসলিমদের সর্বকালের সর্ববিশুদ্ধ মহাধর্ম গ্রন্থ পবিত্র ‘আল্ কোরআনের’ অবমাননা, অপব্যবহার আর অপব্যাখ্যা যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়েছে।

পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট পবিত্র নগরী হারামাইন আশ শরীফাইনের মার্যাদায় কুঠারাঘাত শুরু হয়েছে। মহান রব্বুল আলামীনের নির্দেশ অমান্য করে আজ বিশ্ব মুসলিম নেতৃত্বের অনেকেই ইহুদি আর নাসারাদের সাথে শুধু বন্ধুত্ব নয়, এমনকি রীতিমত তাবেদারী নীতিও অবলম্বন করে চলেছে।

এই নাযুক পরিস্থিতির পরিত্রাণের খাতিরে আমাদের জন্য একটি মাত্র রাস্তা উম্মক্ত, আর তা হলো ছরকারে দো আলম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর প্রকৃত ভালবাসা অন্তরে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলে কোরআন এবং সুন্নাহ কে মজবুত করে আঁকড়ে ধরা।

আর সারা পৃথিবীর মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানগণ সকলে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে পৃথিবীর সকল নিরীহ ও গুনাহগার উম্মতের পক্ষে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র রওজা মুবারককে সামনে রেখে আল্লাহর দরবারে দুহাত বাড়িয়ে দিয়ে সম্মিলিত ভাবে দোয়া আর প্রার্থনার সাথে সকল পাপাচার থেকে তওবা ইস্তেগ্ফার করা।

এছাড়া আমাদের মতো অতি সাধারণ এবং ক্ষুদ্র মানুষগুলোর মহাবিপদ থেকে পরিত্রাণের জন্য সত্যিকারের আউলিয়ায়ে কামেলীনের মহব্বত ও দোয়া পাথেয় হিসাবে সাথে নিয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উসিলার স্মরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নজরে আসছে না।
কারণ আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনের এরশাদ করেছেন,
ما كان الله ليعذبهم وانت فيهم وما كان الله معذبهم وهم يستغفرون،
উচ্চারণ:- মা– কা–নাল্লাহু লিইউআ’য্ যিবাহুম্ ওয়া আন্তা ফীহিম্,ওয়া মা– কা–নাল্লাহু মুআ’য্ যিবাহুম্ ওয়া হুম্ ইয়াস্তাগ্ফি রূন্।
অর্থাৎ আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় হাবিব হুজুরে পুরনূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি তাদের মাঝে অবস্থানরত, আমি আল্লাহ্ তাদের (আমার সেই বান্দাদের) উপর আযাব দেব না, এবং তারা ইস্তেগ্ফারে রত অবস্থায় আমি আল্লাহ্ তাদের উপর আযাব দেই না।” (আলহামদু লিল্লাহ)

আজ পৃথিবীর বেশির ভাগ মুসলিম নরনারীর ঈমান আকীদা আমল আখলাকের সব কিছুতেই গলদ । নেই ধর্মীয় অনুশাসনগুলো মেনে চলার গরজ, আর নেই সুন্নতে নবভীর প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে তা পালনের মুরদ। যার ফলে আল্লাহ্ যেমন আমাদের উপর নারাজ ঠিক তেমনি ভাবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও উম্মতের উপর নাখোশ।
আর আল্লাহর রাগ প্রসমনের উপায় হলো ঈমান আকীদা কে মযবুত করে রসূল সাঃ এর ভালবাসার অর্জনের মধ্য দিয়ে বেশি বেশি করে সদকা করা,এবং নামাজের পা-বন্দীসহ ইসলামী শরিয়তের হুকুম আহ্কাম পালনে যথাসাধ্য সচেষ্ট হওয়া বাঞ্ছনীয়।

লেখক- অধ্যক্ষ বেঙ্গুরা সিনিয়র মাদ্রাসা

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here