চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একজন আওয়ামী লীগ নেতার ‘ভয়ভীতি ও হুমকির’ কারণে সাংবাদিকদের পক্ষে থানায় জিডি করা হয়েছে।
সোমবার বোয়ালখালী থানায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শহীদুল আলমের বিরুদ্ধে জিডি করেন বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের একাংশের সভাপতি এসএম মোদ্দাচ্ছের।
আওয়ামী লীগ নেতা শহীদুল আলম গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার বোয়ালখালী উপজেলা প্রতিনিধি সেকান্দর আলম বাবরকে প্রকাশ্যে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জিডিতে বোয়ালখালী প্রেস ক্লাব সভাপতি লিখেছেন, তাদের সংগঠনের ২৮ জন সদস্য আছেন যারা বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত। স্থানীয় একটি স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের সংবাদ প্রচার করায় শেখ শহীদুল আলম মারধরের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেন সেকান্দর আলম বাবরকে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় কধুরখীল স্কুল মাঠে ‘এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের’ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এ হামলার শিকার হন বাবর।
বিষয়টি নিয়ে মীমাংসা প্রক্রিয়া চলার সময় শহীদুল আলম ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাবরের সহকর্মী ও বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি এসএম মোদ্দাচ্ছের বলেন, শেখ শহীদুল ও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। সে কারণে উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের পক্ষে তিনি এ সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
যোগাযোগ করা হলে বোয়ালখালী থানার ওসি আব্দুল করিম থানার বাইরে অবস্থান করছেন জানিয়ে বলেন, “সাধারণ ডায়েরি হতে পারে। বিষয়টি থানায় গিয়ে দেখব।”
হামলার শিকার সেকান্দার আলম বাবর জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গোমদন্ডী পাইলট স্কুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে সংঘর্ষের খবর প্রকাশিত হয় দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন শহীদুল আলম। ওই দিন বিকালে স্থানীয় কধুরখীল স্কুল মাঠে ‘এমপি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের’ সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সেখানে শহীদুল আলম তাকে মারধর করেন।
বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ শহীদুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জেরে কোনো ঘটনা ঘটেনি। বাবর উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক। কধুরখীল স্কুল মাঠে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তার সাথে ঝামেলা হয়েছে।”
তার সঙ্গে কোনো সাংবাদিকের ‘বিরোধ নেই’ বলে দাবি করেন তিনি।








